মামলা না তুললে গাছে ঝুলিয়ে মারার হুমকি
- অভিযোগ রাবির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান প্রকৌশলী ও স্টেট দপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাম্পাসের ফুড কর্নার ‘টেস্টি ট্রিট’-এর মালিক নিজাম উদ্দীন আলম নগরীর মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ, স্টেট দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রজব আলী এবং তার ভাই সাদ্দাম আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই প্রশাসন ভবন-২–এর সামনে রজব আলী নিজাম উদ্দীন আলমকে ডেকে নেন। সেখানে প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ও সাদ্দাম আলী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী তাকে সাবেক স্টেট প্রধান জাহিদের বিরুদ্ধে করা মামলা আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে তুলে নিতে বলেন। তিনি রাজি না হলে রজব আলী ও সাদ্দাম আলী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাকে প্রশাসন ভবনের সামনে গাছে ঝুলিয়ে মারধর এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে সাদ্দাম আলী তার জামার কলার চেপে ধরেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মোহাম্মদ আলী ও সাফাতুল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন।
নিজাম উদ্দীন আলমের অভিযোগ, ওই ঘটনার কয়েক দিন পর, ২ আগস্ট কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার দোকানের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নিয়মিত দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও এমনটি করা হয়েছে। ফাস্টফুড ও হিমায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসা হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নিজাম উদ্দীন আলমের ভাষ্য, মামলা তুলে নিতে তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় দোকানের বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টেট দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. রজব আলী। তার দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই দোকানির দীর্ঘদিনের ভাড়া বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া তিনি অতিরিক্ত জায়গা দখল করে দোকান পরিচালনা করছেন। এসব বিষয়ে দপ্তর থেকে নোটিশ দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেছেন।
প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি জানেন না। স্টেট দপ্তর থেকে দোকানটির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি শুধু অনুমোদন দিয়েছেন। কী উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তা তার জানা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






