ডিন নিয়োগে প্রতিবাদ
জবি শিক্ষককে ক্যাম্পাসছাড়া করলেন শিক্ষার্থীরা

অধ্যাপক আইনুল ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন, বিতর্কিত রাজনৈতিক ভূমিকার অভিযোগে অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে ক্যাম্পাসছাড়া করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।
তাকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা এ নিয়োগকে জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের তার কক্ষ থেকে তাকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল শুক্রবার লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেশনাল প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশনে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল তার। এর আগে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন কাজে তার সঙ্গে যোগাযোগের খবর পান শিক্ষার্থীরা।
গত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নীল দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ১১ আগস্ট পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, যখন দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছিল, তখন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ৩ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত একাধিক বৈঠকে অংশ নেন আইনুল ইসলাম।
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা আর ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। কিন্তু মূল দোষীদের বিচার না করে, নিরপরাধ কোনো শিক্ষককে যেন মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো না হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বললেন, জুলাইবিরোধী একজন শিক্ষককে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন হিসেবে নিয়োগ পায়। বারবার বিচার চাওয়ার পর সেটার সুরাহা না করে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে ক্যাম্পাসে থাকতে দেব না। এর আগেও তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে তিনি যাননি।





