উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে ১০ উদ্যোগ

সরকারের গত ১৮০ দিনে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। এটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। এতে প্রকল্পে গতি আনতে ১০টি প্রধান উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তৈরি করা ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, গত ১৮০ দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সময় বা সুযোগ পেলে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর একটা চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা সেসব মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি সামনের দিনগুলোয় ভালো ফল দেবে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশনের চারটি সেক্টরের মাধ্যমে একনেকে ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম— এমন ৮২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। সব মিলিয়ে ১২৪টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ, চায়না ইকোনমিক জোন, শিশু হাসপাতাল সম্প্রসারণ, বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র মূল্যায়ন এবং অনুসন্ধান কূপ খনন করা।
প্রকল্পের গতি আনতে নেওয়া উদ্যোগগুলো হলো— প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা ও সমাধানের জন্য নির্দেশিকায় সংশোধন ও সংস্কার, সংশোধিত এডিপিতে গুচ্ছ প্রকল্প তৈরি এবং চলমান ও সবুজ পাতার প্রকল্পের রিস্কোপিং অ্যান্ড রিপারপাসিং কার্যক্রম। এ ছাড়া প্রকল্প মনিটরিংয়ে আইএমইডির ড্যাশবোর্ড প্রবর্তন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ করার ব্যবস্থা এবং জাতীয় এসডিজি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আরও আছে প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সময় পুনর্নির্ধারণ করে একটি টাইমলাইন দেওয়া, দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পিডি (প্রকল্প পরিচালক) পুল গঠন প্রস্তাবসহ পিডি নিয়োগের খসড়া তৈরি করা। এ ছাড়া সরকারি কেনাকাটায় অধিক প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিমূলক পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করা হচ্ছে। প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ-অনুমোদন ও পরিবীক্ষণের জন্য পিপিএস, এএমএস এবং ই-পিএমআইএস সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পাঁচ বছর মেয়াদি একটি করে প্রকল্প নেবে। এটির মূল কাজ হবে প্রতিটি প্রকল্প শেষে কী কী আউটকাম এসেছে, বাস্তবায়নের সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আছে— তা চিহ্নিত করে পরবর্তী প্রকল্পের জন্য সুপারিশ তৈরি করা।
পরিসংখ্যানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নানা উদ্যোগ: দেশের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা ও হালনাগাদ করার জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে গত ১৮০ দিনে। এগুলো হলো— মাইক্রোডেটা অ্যানালইসিস ল্যাব উদ্বোধন, ডেটা ও মাইক্রোডেটা প্রকাশ ও প্রবেশাধিকার নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া তৈরি এবং দেশের সব শুমারি ও জরিপের ডেটা একই প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ এবং পুনর্ব্যবহারের জন্য ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাটিসটিক্যাল ডেটা ওয়্যারহাউজ স্থাপনে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা। এ ছাড়া জিডিপির ফরেনসিকস অডিট করতে একটি কমিটি কাজ করছে। মূল্যস্ফীতির হিসাব রিভিউ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে জিডিপি রিবেজিংয়ের প্রয়োজনীয় জরিপ করা হচ্ছে।






