২৫ হাজার একর জমি ফাঁকা
- সরকারি ৫ অর্থনৈতিক অঞ্চল
- গ্যাস-বিদ্যুৎসহ আস্থার সংকটে বিনিয়োগকারীরা

ফাইল ছবি
বিনিয়োগের জন্য বিশাল অবকাঠামো প্রস্তুত করা হলেও দেশের সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। প্রায় ৩৯ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত উৎপাদনে গেছে মাত্র ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ দেওয়া জমির মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্তমানে কার্যক্রম চলছে।
অবকাঠামোগত ধীরগতি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প-পানির সংকট, বাড়তি সার্ভিস চার্জ, দ্বৈত ভ্যাট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্লট নেওয়া উদ্যোক্তারাও কারখানা চালু করতে পারছেন না। নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যৌথভাবে নীতিগত দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেজিয়া)।
সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বেজিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি এম এ জব্বার। বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
সভায় বেজিয়া সভাপতি এম এ জব্বার বলেছেন, বহু উদ্যোক্তা প্লটের জন্য বিপুল অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। পাঁচটি সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় ৩৯ হাজার একর জমিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে। বরাদ্দ হওয়া জমির মাত্র ৩৭ শতাংশ বর্তমানে পরিচালনায় আছে।
বেজার অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পাঁচটি ইকোনমিক জোন হচ্ছে— মিরসরাই ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোন, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল, আড়াইহাজার জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল।
সভায় উদ্যোক্তারা বলেছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের পরও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প-পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিনিয়োগের খরচ বাড়ছে। এর পাশাপাশি কারখানা পুরোপুরি সচল হওয়ার আগেই সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হলে উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
এ অবস্থায় প্রতিশ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহৃত ইউটিলিটি বিলের ওপর বেজা আরোপিত সার্ভিস চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের শিল্পের সঙ্গে সমতা বজায় রাখতে জোনভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খাতভিত্তিক নগদ প্রণোদনা দেওয়ার দাবি তোলা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করেও যদি বাইরে থাকা একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুবিধা কম পাওয়া যায়, তাহলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।
এ ছাড়া মাস্টার লিজ হোল্ডার ও পরবর্তী সাব-লিজ গ্রহীতা— দুই পর্যায়েই ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরে দ্বৈত করারোপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। লিজ ট্যারিফের ওপর ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফেরও দাবি করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতাও বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশীয় বন্ড-লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারকদের কাছে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি সময় ও জটিলতা কমাতে ইএক্সপি ও ইপি ছাড়া প্রচ্ছন্ন রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ৯৯ বছরের লিজের মিউটেশন ব্যাংকযোগ্য করা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) কার্যকর করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, জমির মালিকানা ও ব্যাংকঋণের নিশ্চয়তা এবং দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে।
বৈঠকে বেজিয়া সভাপতি এম এ জব্বার জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিজিএমইএর ৪১টি ইউনিট বিনিয়োগকারী রয়েছে। পোশাক খাতের এত বড় বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামো ও নীতিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।




