ভ্যাটমুক্ত থাকছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ছবি : সংগৃহীত
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন। সে আলোকে এ খাত থেকে আয়ের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আগামী বাজেটে বিষয়টি প্রস্তাব করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের এক কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দ্রুত বিকাশমান এই খাতের ওপর নতুন কর আরোপ করা হলে তরুণ উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল কর্মীদের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। বর্তমানে সরকার বরং এ খাতকে উৎসাহ দিতে কর অব্যাহতি ও নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। বিশ্বের মোট ফ্রিল্যান্সারের প্রায় ১৫ শতাংশ বাংলাদেশি এবং অনলাইন লেবার সাপ্লাইয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে দাবি করা হয়।
সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ফ্রিল্যান্সারকে স্মার্টকার্ড দেওয়া হয়েছে। আইসিটি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত বর্তমানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে।
২০১৮ সালে এ খাত থেকে আয় ছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২০ মিলিয়ন ডলারে। পরে আয় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার বছরে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকৃত আয় আরও বেশি। কারণ অনেকেই তাদের পুরো বৈদেশিক আয় দেশে আনেন না।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও এ খাত থেকে সরকারের সরাসরি রাজস্ব আদায় এখনো খুবই সীমিত। কারণ, আইটি ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, এআই সলিউশন, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ নির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল সেবা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতির আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া সরকার স্বীকৃত ৫৫টি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করে ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় দেশে আনলে ফ্রিল্যান্সারদের ৪ শতাংশ নগদ প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট বা কর আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জুয়েল রানা বলেছেন, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়ে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি শুনে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নিতে বলেন এবং এ ধরনের কর আরোপ না করার বিষয়ে নীতিগত সমর্থন দেন।
জুয়েল রানার ভাষ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন এবং অনেক তরুণ এই আয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তিনি আরও বলেছেন, দেশের অর্থ পাচার না করে বরং বৈদেশিক আয় দেশে আনছেন— এমন তরুণদের প্রতি সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ করা উচিত।




