কৃতী শিক্ষার্থী ও তাদের চা দোকানি মা-বাবাকে নাম্বার ওয়ানের সংবর্ধনা

চায়ের দোকানি মা-বাবার শ্রম ও তাদের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে ‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ আয়োজন করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নাম্বার ওয়ান। এই আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জনকারী চায়ের দোকানিদের ১৩৫ মেধাবী সন্তান এবং তাদের মা-বাবাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আগামী দুই বছর শিক্ষাসহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে নাম্বার ওয়ান। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা ১০ মিনিট স্কুল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক অনলাইন অ্যাকাডেমিক কোর্স করার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক এবং ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমজিআইয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার, চিফ হিউমান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, অডিট, সাজ্জাদ হোসেন, ডিজিএম ব্র্যান্ড মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, এজিএম অর্জুন চন্দ্রনাথ, আব্দুর রহিম শেখ এবং রতন মজুমদার।
লেখক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘জীবনে বড় হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা, পরিশ্রম করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার সাহস। তোমাদের অনেকের পরিবার হয়তো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা যেন তোমাদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। নিজেদের যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা পরিবার ও সমাজের জন্য গর্ব বয়ে আনবে— এটিই প্রত্যাশা।’
আয়মান সাদিক বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের জীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা ও শেখার সুযোগ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তোমরা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছ। এবার এই অর্জনকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হবে। তোমাদের শিক্ষাযাত্রায় নাম্বার ওয়ানের এ সহায়তা যেন কাজে লাগে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
অনুষ্ঠানে এমজিআই চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেছেন, ‘১৩৫ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫ অর্জন তাদের পরিশ্রম ও চা দোকানি মা-বাবার ত্যাগের ফল। বৃত্তি ও দুই বছরের শিক্ষাসহায়তা তাদের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে বলে আমরা আশা করি।’
চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আতিক উজ জামান খান বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে তাদের মা-বাবার অবদান অনস্বীকার্য। নাম্বার ওয়ানের এই উদ্যোগ তাদের উৎসাহিত করবে এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’



