খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিতে বরাদ্দ বাড়ছে ৩২১২৮ কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অনেকটাই নির্ভর করছে কৃষি সাফল্যের ওপর। করোনা মহামারীর মতো দুর্যোগেও কৃষিই ছিল মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ভরসা। এটি অনুধাবন করছেন নীতিনির্ধারকরাও। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এ খাত। চলতি অর্থবছর বরাদ্দ যেমন বেড়েছে, তেমনি আগামী তিন অর্থবছরের জন্যও মোট ৩২ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বর্ধিত বরাদ্দের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষি খাতকে রপ্তানিমুখী ও প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ছয়টি উন্নয়ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগ থেকে তৈরি করা এডিপির বইয়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর ফলে পরিকল্পিত সরকারি বিনিয়োগ সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, শুধু কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করা হয়নি। এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কৃষি খাত। ফলে ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগ জানাচ্ছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে থোক হিসেবে দেওয়া আছে আরও ২ হাজার ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোনো প্রকল্পে যদি বাড়তি টাকার প্রয়োজন হয়, কিংবা নতুন প্রকল্প অনুমোদনের পর এ থোক থেকেই অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা (কৃষি মন্ত্রণালয়) নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (থোক ও বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া) ৯ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে দেওয়া হবে ১০ হাজার ৭০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে বরাদ্দ প্রাক্কলন করা হয়েছে ১১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা বিভাগের ভাষ্য, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে কৃষি সেক্টরের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। এ ছাড়া কৃষি গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে এই খাতকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করা হবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা-২ অনুযায়ী ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টি অর্জনের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশাপাশি কৃষকদের উন্নত পণ্যমূল্য প্রদান এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
ছয় কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্য: সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে কৃষি সেক্টরের কৌশলগত উদ্দেশ্য হচ্ছে— টেকসই উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জলবায়ু অভিযোজন সক্ষম কৃষি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের সঙ্গে টেকসই নিবিড়তা ও বহুমুখীকরণ বৃদ্ধি। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জীবিকার উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ। কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় ও রপ্তানি বাজারে কৃষক ও অন্যান্য অংশীজনের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
চলতি অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হলো— ফসলের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত জাত ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবন এবং বিতরণ। এ ছাড়া উৎপাদন ও বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও এর সম্প্রসারণ। পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা। সেচের পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানির অপচয় কমানো ও সেচ এলাকা সম্প্রসারণ, সেচ কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির অধিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সেচের জন্য সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো।




