যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেখে ‘হতভম্ব’ সিপিডি

সংগৃহীত ছবি
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, এই ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারে, যার দায় চাপবে নির্বাচিত সরকারের ওপর।
নতুন সরকারের ১৮০ দিন এবং তারপর কী করতে হবে, তা নিয়ে শনিবার সিপিডির তরফে ব্রিফিং করছিলেন তিনি।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তার তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার বাণিজ্য চুক্তি হয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “আপনাদের সকলের খেয়াল থাকবে যখন শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল তখন আমাদেরকে, সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হল, শুধুমাত্র শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। আপনাদের নিশ্চয়ই খেয়াল আছে, শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
“সেটা কি? এটা ৩৫ (পাল্টা শুল্ক শতাংশে) থেকে কীভাবে আমরা ২০-এ কমিয়ে আনতে পারব এবং তার জন্য কিছু কিছু ক্রয় চুক্তি করলেই নাকি আমাদের এটি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যে চুক্তিটি আসলো-এটি দেখে আমরা হতভম্ব। আমরা স্তম্ভিত।”
বাড়তি সম্পূরক শুল্কের বোঝা মাথায় নিয়ে নয় মাসের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের বাণিজ্য চুক্তিটি করে। ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল।
চুক্তি বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মোয়াজ্জেম বলেন, “এই ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারেন বা এই দায়টি কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দিয়ে যেতে পারেন।
“আমার কাছে মনে হয় যেকোনো একটি বিষয় যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে এই একটি চুক্তির জন্য আমি আসলে নিন্দা জানাতে চাই।”
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও তুলে ধরেন।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “যদিও ওটা শুল্ক সংক্রান্ত বিষয় ছিল, কিন্তু ওটিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল দেশকে যে এরকম একটি বৈষম্যমূলক চুক্তিতে বাধ্য হওয়া, এটিও আসলে ওই চুক্তিরই অংশ হতে পারে, ওই নির্দেশনার অংশ হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
“সুতরাং আমার মনে হয় যে সরকার এই তিনটি বিষয়ের আলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যামিকাবলি আলোচনা করতে পারেন যে কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায় এবং কীভাবে উভয় দেশ এই ধরনের চুক্তি না করে বরং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে যেটাতে উভয় দেশের বাণিজ্য স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।”



