বাজেটের ১০০ টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটের প্রতি ১০০ টাকার বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে।
সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত হিসেবে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ১৪ টাকা। দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পিত অর্থ বরাদ্দের এই চিত্র তাৎপর্যপূর্ণ।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১১ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয় হবে কৃষি, রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি ও প্রণোদনামূলক কার্যক্রমে। এর বাইরে সরকারি সেবা ও দাপ্তরিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনপ্রশাসন খাতে ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৮ টাকা ৮০ পয়সা বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের।
বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় খাতের সমন্বয়ে গঠিত অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে ৬ টাকা ১০ পয়সা।
বাজেট রূপরেখা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫ টাকা ৭০ পয়সা। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে দেওয়া হয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয়ের প্রস্তাব। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধা দিতে ৪ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের বাকি অংশটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জ্বালানি খাতের সুরক্ষায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ৪ টাকা ৩০ পয়সা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা রক্ষায় ৪ টাকা ১০ পয়সা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত কৃষিতে ৩ টাকা ৭০ পয়সা এবং অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে প্রতিটি ১০০ টাকার মধ্য থেকে চূড়ান্ত হয়েছে ২ টাকা ৯০ পয়সা বরাদ্দ দেওয়ার রূপরেখা।






