যুদ্ধবিরতির খবরে স্বস্তি, চাঙ্গা দেশের শেয়ারবাজার

যুদ্ধ নয়, শান্তিই চায় বিশ্ববাসী—এ বাস্তবতাই আবারও প্রমাণিত হলো সাম্প্রতিক সময়ের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও। সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেনদেন প্রায় হাজার কোটির ঘর ছুঁয়েছে।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে দুই দেশ ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই খবরে আজ বুধবার দিনের শুরু থেকেই দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। লেনদেন বৃদ্ধি ও সূচকের উত্থান—দু’টিই দিনভর বজায় ছিল, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। যুদ্ধের শুরুতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৬৫ ডলার, যা বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়। এর অন্যতম কারণ ছিল হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ বিঘ্ন।
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু ইরান প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও—জ্বালানি ঘাটতির কারণে শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।
এর ফলে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহু কোম্পানি ক্ষতির মুখে পড়ে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহ সংকট এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি গ্রামীণফোনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের আয় কমতে পারে।
এসব কারণে মাঝেমধ্যে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে টানা পতনের মধ্যে ছিল দেশের উভয় শেয়ারবাজার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, দর কমেছে ১৫টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির। ডিএসইতে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯৭ কোটি টাকার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮ টির এবং ৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির ৪৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকার। ২৮ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে-একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড , ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি , ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম লিমিটেড, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এবং কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড।
















