দুই মাস পর লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন নেতিবাচক প্রবণতায় থাকা দেশের শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। দুই মাসের বেশি সময় পর আজ বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ছাড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা। বুধবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে দাম বেড়েছে অধিকাংশ শেয়ারের।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ইরানে আক্রমণের পর গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে হুহু করে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে এক ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছিল ৬৫ ডলারে। সেখানে যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহ পর সেই এক ব্যারেল ১২০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে দেশের শেয়ারবাজারে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরতে শুরু করে। যার প্রভাবে সূচকের কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও লেনদেন খুব একটা কমেনি। সর্বশেষ গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্যাম্প যুদ্ধবিরতির সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ দরপতনে অনেক মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম যৌক্তিক মূল্যের অনেক নিচে নেমে আসে। ফলে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাজারে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে। যার প্রভাব আজকের বাজারে দেখা গেছে।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫২৯৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১০৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২০০৪ পয়েন্টে।
৩৯১ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৭ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭৯৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯১টির এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিলের লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার টাকার। ২৩ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড, মন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম লিমিটেড, অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

