পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রি
- তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির

শেয়ারবাজারের পাঁচ বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব থেকে মালেক স্পিনিং মিলসের শেয়ার বিক্রির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ার বিক্রির নির্দেশ কে দিয়েছিল, আদেশপত্রের স্বাক্ষর ও নথি আসল কি না এবং অর্থ কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিটি ব্রোকারেজ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন— বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম। আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক)-এর ক্ষমতাবলে এ তদন্ত পরিচালিত হবে। তদন্তে কোনো আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ, আর্থিক প্রভাব পরিমাপ এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, সিটি ব্রোকারেজ দাবি করেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছ থেকে তারা শেয়ার বিক্রির নির্দেশ পেয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে পাঁচ বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, তারা শেয়ার বিক্রির অনুমতি দেননি। ফলে শেয়ার বিক্রির নির্দেশের প্রকৃত উৎস, অনুমোদন ও লেনদেন সম্পাদনের প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অসংগতি তদন্তের প্রধান বিষয়।
মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার বিক্রি নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে অসংগতি
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিতর্কিত বিক্রয় আদেশপত্রের সত্যতা যাচাই। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কাছে সংরক্ষিত মূল আদেশপত্র যাচাই করা হবে। নথিটি কখন প্রস্তুত হয়েছে, কে স্বাক্ষর করেছেন, তারিখ ও ক্রমিক নম্বর কী এবং কীভাবে সিটি ব্রোকারেজের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা দেখা হবে। সিটি ব্রোকারেজ কমিশনের কাছে যে কপি জমা দিয়েছে, তার সঙ্গে মূল নথির মিল রয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হবে। আদেশপত্রগুলো সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল, নাকি পরে তৈরি, পরিবর্তন, জাল বা আগের তারিখ দেখিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তদন্ত হবে। প্রয়োজনে নেওয়া হবে বিশেষজ্ঞের মতামত।
এদিকে, শেয়ার বিক্রির অর্থের গতিপথ ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় রয়েছে। বিক্রির আদেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কী পরিস্থিতিতে শেয়ার নিষ্পত্তির জন্য সরবরাহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্রির অর্থ কোথায় জমা হয়েছে, কীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে এবং মার্জিন দায়ের বিপরীতে কোনো অর্থ সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট লেনদেন, শেয়ার স্থানান্তর, নিষ্পত্তি, হিসাবের লেজার ও অর্থ সমন্বয়ের নথিপত্র পরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া পাঁচ বিনিয়োগকারীর শেয়ারে লক-ইন বিধিনিষেধ ছিল কি না, এর বিপরীতে মার্জিন ঋণ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং জামানত হিসেবে শেয়ার ব্যবহার ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা-ও যাচাই করবে তদন্ত দল। পাশাপাশি আদেশ তৈরি, অনুমোদন, প্রেরণ ও কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ ও ট্রেডারদের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।
তদন্তে সিটি ব্রোকারেজ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্যানেল ব্রোকার বা ট্রেডার এবং দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা ও দায়িত্ব খতিয়ে দেখা হবে। অননুমোদিত লেনদেন, যোগসাজশ, নথি জাল বা পরিবর্তন, অবহেলা কিংবা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।



