বাজারে আসার পথ খুলছে বড় কোম্পানির
- ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার গেজেট প্রকাশ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে সরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বড় শিল্পগোষ্ঠী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানি। তবে এক্ষেত্রে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানির অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এসব সুযোগ ও সুনির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করে গত রবিবার ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন এ বিধিমালায় শেয়ারের ন্যূনতম প্রস্তাবমূল্য নির্ধারিত রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রাখা, আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা অর্জন এবং সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহের শর্ত পূরণ করতে হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির আবেদনকারী কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। বার্ষিক টার্নওভার বা মোট বিক্রির আয় অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে। সম্পূর্ণ বা অন্তত ৫১ শতাংশ বিদেশি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি এ সুযোগ পাবে। সরকারের ন্যূনতম ১০ শতাংশ মালিকানা থাকা কোম্পানিগুলোও যোগ্য হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত বিবরণী অনুযায়ী নিট সম্পদ অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নির্ধারিত অন্য কোম্পানিও সুযোগ পাবে।
শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে কোম্পানিকে মার্চেন্ট ব্যাংকারের পরামর্শে একটি রেফারেন্স মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য অন্তত দুটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে একটি পরম ও অন্যটি আপেক্ষিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হতে হবে। ব্যবসার ধরন ও খাত বিবেচনায় পদ্ধতি নির্বাচন এবং যৌক্তিকতা প্রকাশ করতে হবে। রেফারেন্স মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কমে শেয়ারের ন্যূনতম প্রস্তাবমূল্য নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ রেফারেন্স মূল্য ১০০ টাকা হলে প্রস্তাবমূল্য ৭৫ টাকা বা কম হতে হবে। তবে প্রথম দিনের মূল্য আবিষ্কার পর্বে বিনিয়োগকারীদের দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে শেয়ারের চূড়ান্ত বাজারদর নির্ধারিত হবে।
বিধিমালায় তালিকাভুক্তির পর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির বিক্রয়যোগ্য মোট শেয়ারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কিনতে পারবেন। বিক্রির জন্য নির্ধারিত শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ প্রথম লেনদেন দিবস থেকে পরবর্তী ৩০ লেনদেন দিবসের মধ্যে বিক্রি করতে হবে। প্রথম দিন শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে দুই ঘণ্টার মূল্য আবিষ্কার পর্ব থাকবে।
এ সময় বিনিয়োগকারীরা ক্রয়াদেশ দিতে পারবেন, তবে বিক্রেতারা কোনো বিক্রয়াদেশ দিতে পারবেন না। ন্যূনতম প্রস্তাবমূল্যের নিচে কোনো ক্রয়াদেশ গ্রহণ করা হবে না। মূল্য আবিষ্কার পর্ব শেষে বিক্রেতারা বাজারে পাওয়া সর্বোত্তম দরে শেয়ার বিক্রির আদেশ দিতে পারবেন। প্রথম দিন শেয়ারের ওপর কোনো সার্কিট ব্রেকার কার্যকর হবে না। প্রথম দুই লেনদেন দিবসে একক আদেশে ১০০টির কম বা এক হাজারের বেশি শেয়ার কেনার আদেশ গ্রহণ করা হবে না। সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত বিক্রেতারা ওই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন না। তালিকাভুক্তির সময় হাতে থাকা শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত বিধিনিষেধ থাকবে।
তালিকাভুক্তির আবেদন করতে ১ লাখ টাকা ফি দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জকে কোনো ঘাটতি থাকলে অবশ্যই জানাতে হবে। সব শর্ত পূরণের পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিতে হবে। অনুমোদিত তথ্যবিবরণী প্রথম লেনদেন শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রকাশ করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ২০১৫ সালের তালিকাভুক্তি প্রবিধানমালায় থাকা ডাইরেক্ট লিস্টিং-সংক্রান্ত ৮ থেকে ১৩ নম্বর প্রবিধান বাতিল করা হয়েছে।



