তদন্তের মুখে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার
- ৭ কার্যদিবসে দর বেড়েছে ১৫.৮১%

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে বীমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনে। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা।
সম্প্রতি কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। গত কয়েক দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৮ জুন প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ছিল ৭৪ টাকা, যা ২৯ জুন বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৭০ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি দর ১১ দশমিক ৭০ টাকা বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে গত কয়েক কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম কিছুটা কমেছে।
জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তাই এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেছেন কি না। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইনের অন্য কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ধরে রাখতে বিএসইসি নির্দেশিত এই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৮১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৯টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ৩৯ দশমিক ৯৮, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২১ দশমিক ২৪ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।




