খরচ কমাতে সোলারে ঝুঁকছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের শক্তিশালী কোম্পানি প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বড় ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল রবিবার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানিটি তাদের নিজস্ব কারখানা প্রাঙ্গণে ৯ দশমিক ৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট স্থাপন করবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেড-এর সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেডের মোট পরিশোধিত মূলধনের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারই প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের হাতে রয়েছে।
প্রকল্পটি পরিচালন ব্যয় মডেলে বাস্তবায়িত হবে। অর্থাৎ, প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেড এই প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৮ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারিত ট্যারিফে (ভ্যাট ও এআইটি বাদে) প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলকে সরবরাহ করা হবে।
পিভি সিস্টেম চালু হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ২০ বছর পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর থাকবে। গাজীপুরের শ্রীপুরের গিলারচালায় অবস্থিত কোম্পানির নিজস্ব কারখানা প্রাঙ্গণের ছাদে এই সৌর প্যানেলগুলো স্থাপন করা হবে।
২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মূলত শতভাগ রপ্তানিমুখী কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কোম্পানিটি কটন ইয়ার্ন-ডাইড, সলিড ডাইড ও চেক শার্টের কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সমন্বিত ডাইং ও ফিনিশিং সেবা দিয়ে থাকে। গাজীপুরে অবস্থিত তাদের কারখানাটি প্রায় ৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক বাজারে বছরে ৬ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির।
শেয়ারবাজারে বর্তমানে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার ৫০ টাকার আশপাশে লেনদেন হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির এই নতুন উদ্যোগটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। নগদ প্রবাহ এবং সম্পদ মূল্যের দিক থেকে কোম্পানিটি টেক্সটাইল খাতে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।
গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎস থেকে ৮.২০ টাকায় বিদ্যুৎ পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ‘গ্রিন এনার্জি’ ব্যবহারের গুরুত্ব বাড়ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কোম্পানিটি আরও বেশি রপ্তানি আদেশ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে। প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই ব্যবসা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। বস্ত্র খাতের জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সৌরবিদ্যুতে এই রূপান্তর কোম্পানিটিকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

