অলিম্পিকের ১৮ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ

উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় করতে নতুন বিনিয়োগের পথে হাঁটছে শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত শক্তিশালী কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটি তাদের নিজস্ব প্যাকেজিং সুবিধা বাড়াতে একটি নতুন কার্টন প্ল্যান্ট স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে তিনটি কারখানায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ রোববার অনুষ্ঠিত সভায় নতুন এ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, কোম্পানির নিজস্ব প্রয়োজনে ৩-প্লাই ও ৫-প্লাই করুগেটেড কার্টন উৎপাদনের জন্য একটি ‘সিঙ্গেল কার্টন মেকিং প্রোডাকশন প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য চীন থেকে ১০ সেট অত্যাধুনিক মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে। এর এলসি মূল্য (ফ্রেইটসহ) ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় আনুমানিক ১৮ কোটি ৬৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
নতুন এই প্ল্যান্টটি চালু হলে বছরে প্রায় ৩৯৪.২০ মিলিয়ন বর্গমিটার করুগেটেড বোর্ড উৎপাদন সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কুতুবপুর কারখানায় এই যন্ত্রপাতিগুলো স্থাপন ও কমিশনিং করা হবে। এতে কোম্পানির নিজস্ব প্যাকেজিং চাহিদা পূরণ সহজ হবে এবং খরচ কমবে।
এছাড়া জ্বালানি খাতে টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদন খরচ কমাতে তিনটি কারখানায় রুফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক। এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি করা হবে।
মাদানপুর কারখানায় ৩২৯.৬১৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। কুতুবপুর কারখানায় ৩১৮.৮৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হবে ১ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার টাকা এবং লোলাটি কারখানায় ৩৯৩.২৫ কিলোওয়াট সক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
ডিএসই-এর তথ্য অনুযায়ী, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ব্যবসায়িকভাবে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৫.৯৯ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫.৮২ টাকা। এছাড়া ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৫.৩৪ টাকা। শক্তিশালী ডিভিডেন্ট প্রদানের ইতিহাস থাকা এই কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২৫ সমাপ্ত বছরের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এসব বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে প্যাকেজিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার কোম্পানির উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।
















