ভ্যানগার্ডকে অবৈধ বিনিয়োগ ফেরতের নির্দেশ, ব্যর্থ হলে জরিমানা

সংগৃহীত ছবি
সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে দুইটি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ আছে ভ্যানগার্ডের নামে।
অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ওই অর্থ সুদসহ ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে প্রতিষ্ঠানটিকে গুনতে হবে মোট ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা । মঙ্গলবার কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১২তম সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। পরদিন বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় বিষয়টি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ‘ভ্যানগার্ড এএমএল রুপালি ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড’ থেকে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডের ৬ লাখ শেয়ারে বিনিয়োগ করে ভ্যানগার্ড। প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা দরে কিনে বিনিয়োগ করা হয় মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা আইনবহির্ভূত ছিল। এ ঘটনায় ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ব্যর্থ হলে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। একইভাবে, ২০১৭ সালে একই ফান্ড থেকে এএফসি হেলথ লিমিটেডের ৪৮ লাখ শেয়ারে বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ২ টাকা ৫০ পয়সা প্রিমিয়ামসহ ১২ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে বিনিয়োগ করা হয় মোট ৬ কোটি টাকা। যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে জরিমানা দিতে হবে ১৬ কোটি টাকা। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে নিজস্ব তহবিল থেকে। এরপরও ব্যর্থ হলে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হবে। ঘটনায় তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিনিয়োগের বিপরীতে ৯৯ শতাংশ প্রভিশনের বিষয়টি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে না ধরায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মালেক সিদ্দিকী ওয়ালি অ্যান্ড কোংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে। বিএসইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।



