প্রভিশন-মুনাফায় ফাঁকি এনআরবিসি ব্যাংকের

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক তাদের ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি বা প্রভিশন না রেখেই মুনাফা ও সম্পদের অতিরঞ্জিত চিত্র তুলে ধরেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক হিসাব মান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক প্রভিশন রাখা হলে ব্যাংকটির মুনাফার বদলে বড় অঙ্কের লোকসান হতো এবং দেখা দিত উল্লেখযোগ্য মূলধন ঘাটতি।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এনআরবিসি ব্যাংক ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৬ পয়সা নিট মুনাফা দেখিয়েছে। এ সময় ব্যাংকটির নিট সম্পদ দেখানো হয় ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যার শেয়ারপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ১৬.৭৪ টাকা। তবে নিরীক্ষকদের মতে, ওই বছর ব্যাংকটির মোট সঞ্চিতি ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। অপর্যাপ্ত মুনাফার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পরে এই সঞ্চিতি গঠনের সুযোগ দিলেও তা আন্তর্জাতিক হিসাব মানের পরিপন্থী। ভবিষ্যতে এই বিপুল সঞ্চিতি রাখতে হবে বিধায় বর্তমান আর্থিক বিবরণীতে এর প্রকৃত প্রভাব না থাকায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
হিসাব মান অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই ওই ঘাটতির পুরোটাই প্রভিশন হিসেবে রাখা হলে ব্যাংকটি ৯৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিশাল লোকসানে পড়ত। তখন শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়াত ১১.৯৮ টাকায়। একই সঙ্গে নিট সম্পদ কমে ৩৮১ কোটি ৫ লাখ টাকায় এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মাত্র ৪.৬০ টাকায় নেমে আসত।
২০২৫ সালে কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়েছে ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তবে ওই বছর মোট সঞ্চিতি ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা
প্রয়োজনীয় এই প্রভিশন বাদ দেওয়ায় ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফার (সিসিবি) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রভিশন ঘাটতির কারণে এনআরবিসি ব্যাংকের সিসিবি একক ভিত্তিতে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মূলধন পর্যাপ্ততার এ ঘাটতির ফলে লঙ্ঘিত হয়েছে ব্যাংকটির একক ঋণগ্রহীতা এক্সপোজার লিমিট ও লার্জ লোন লিমিটও।
এর বাইরে লিজ হিসাবায়নেও অসামঞ্জস্য পেয়েছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকটির নিজস্ব নীতির আওতায় মাত্র ১৭টি শাখার রাইট অব ইউজ (আরওইউ) সম্পদ ও লিজ দায় পরিমাপে আইএফআরএস ১৬-এর ধারা যথাযথভাবে মানা হয়নি। ফলে সম্পদ ও দায়ের হিসাবে গরমিল সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য শাখায় এই মানদণ্ড প্রয়োগ না করায় আরওইউ সম্পদ ৭৪.০৯ কোটি এবং লিজ দায় ৭৮.১৭ কোটি টাকা কম দেখানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) রাশেদুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংস্থান, আইএফআরএস-১৬ অনুযায়ী লিজ হিসাবায়ন, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং ঋণ এক্সপোজার-সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। এনআরবিসি ব্যাংক এসব পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং এগুলোকে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।




