এফএ ট্রেডিংকে জরিমানা
স্টার অ্যাডহেসিভের দর বাড়িয়ে কারসাজি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত স্টার অ্যাডহেসিভস লিমিটেডের শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। তদন্তে এর প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে অপরাধে জড়িত থাকার কারণে এফএ ট্রেডিং করপোরেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সম্প্রতি বিএসইসির কমিশনার নাহিদ মাহতাব স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
বিএসইসি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টার অ্যাডহেসিভসের শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন পরিলক্ষিত হয়। এক মাসের সামান্য বেশি এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বিপুল পরিমাণ শেয়ার এককভাবে কিনে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি এবং দামের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে উঠে আসে বিএসইসির তদন্তে।
আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের শীর্ষ ক্রেতা ছিল এফএ ট্রেডিং করপোরেশন (বিও আইডি: ১৬০৫১২০০৬৩১১০১৮৭)। তারা যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৯১৫টি শেয়ার কেনে, যা ওই সময়ে বাজারে লেনদেন হওয়া মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনলেও এর বিপরীতে তারা বিক্রি করে মাত্র ৫০ হাজার শেয়ার। এতে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ২০ লাখ ৩২ হাজার ২৩৫ টাকার ‘আনরিয়েলাইজড’ (অবাস্তবায়িত) মুনাফা করে। বিএসইসির মতে, এটি বাজারে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং অন্য বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০ জানুয়ারি ২০২৫ দুপুর ১টা ২১ মিনিট থেকে ১টা ২৩ মিনিটের মধ্যে মাত্র দুই মিনিটে প্রতিষ্ঠানটি টানা ৫৪টি হাওলার মাধ্যমে ৩৯ হাজার ৮৬৩টি শেয়ার কেনে। এর ফলে শেয়ারের দর ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠে। ওইদিন মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশই কিনেছিল এফএ ট্রেডিং।
একইভাবে ২৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা ২৭ মিনিট থেকে ১০টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে বাজারে সম্পন্ন হওয়া ২০টি হাওলার মধ্যে ১৬টিই সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনাকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(ভি) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএসইসি।
এই অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নোটিস জারি করে ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে এফএ ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ লিখিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদে লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল থেকে মার্জিন ঋণ নিয়ে এবং আরএসআই ও এমএসিডি সূচকের ভিত্তিতে তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন; বাজার কারসাজির কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।
তবে, কমিশন তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২২ ধারার ক্ষমতাবলে শেষ পর্যন্ত এফএ ট্রেডিং করপোরেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।




