কমোডিটি ব্রোকারদের অতিরিক্ত মূলধনের শর্ত শিথিলের প্রস্তাব

দেশের কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে ব্রোকারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে অতিরিক্ত পরিশোধিত মূলধনের শর্ত শিথিলের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) থাকা ব্রোকারদের কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনে ২০ কোটির পরিবর্তে ১০ কোটি টাকা মূলধন নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে বিধিমালার একটি শর্ত থেকে অব্যাহতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে গত ১২ অক্টোবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩’-এর বিধি ২২(১) অনুযায়ী দ্বৈত ট্রেকধারী প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত মূলধনের শর্ত শিথিলের অনুরোধ জানানো হয়। সিএসইর মতে, এই ছাড় ডেরিভেটিভস বাজারে অংশগ্রহণকারী বাড়ার পাশাপাশি টেকসই বিকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য বিধিমালার ২২(গ) ধারায় ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের শর্ত রয়েছে। তবে বিধি ২২(১)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের একাধিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেক থাকলে তার মূলধনের পরিমাণ সেই সংখ্যা অনুযায়ী বাড়তে পারে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় প্রতিষ্ঠানে ট্রেক থাকা কোনো ব্রোকারকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ২০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রাখতে হতে পারে।
সিএসইর মতে, অতিরিক্ত মূলধনের শর্ত আরোপ করা হলে ব্রোকারদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ তৈরি হবে, যা নতুন কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। বাজারটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
চিঠিতে বলা হয়, দেশে প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স পেয়েছে সিএসই। অন্যদিকে ডিএসই বর্তমানে শেয়ারবাজার পরিচালনা করলেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনার অনুমোদন পায়নি। ফলে কোনো ব্রোকারের ডিএসই ও সিএসই— উভয় প্রতিষ্ঠানে ট্রেক থাকলেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এ অবস্থায় একাধিক এক্সচেঞ্জে ট্রেক থাকার কারণে ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত মূলধনের শর্ত বাধ্যতামূলক করা যৌক্তিক নয় বলে মনে করছে সিএসই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এ ধরনের শর্ত সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রবেশের বাধা তৈরি করতে পারে, যা নতুন বাজারের সম্প্রসারণ ও কার্যকর প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এর মধ্যে কমোডিটি বাজারে অংশ নিতে আগ্রহী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও শর্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসির কাছে বিধিমালার প্রয়োগে প্রয়োজনীয় ছাড় চেয়েছে সিএসই।
এজন্য বিধিমালার অন্যান্য শর্ত বহাল রেখে দ্বৈত ট্রেক থাকা যোগ্য ব্রোকারদের ক্ষেত্রে বিধি ২২(১)-এর কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত মূলধনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিএসইর প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব ব্রোকার কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য বিধি ২২(গ) অনুযায়ী ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রাখলেই যোগ্য বিবেচিত হতে পারে।
২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই স্বপ্ন ২০২৪ সালে চূড়ান্ত নিবন্ধন পায়। ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (এমসিএক্স) এবং পাকিস্তান মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (পিএমইএক্স) অভিজ্ঞতায় অনুপ্রাণিত হয়েই গড়ে উঠছে বাংলাদেশের এই প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ। এর মধ্যে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচিং, অর্ডার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করেছে সিএসই।



