মুনাফা কমেছে ২১%, তবু লভ্যাংশ দিচ্ছে লাফার্জহোলসিম

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির লোগো
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে ২১ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। জ্বালানি, পরিবহন ও কাঁচামালের ব্যয় বাড়ায় মুনাফা কমলেও চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।
কোম্পানিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে লাফার্জহোলসিমের নিট বিক্রি বেড়েছে ৬ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
তবে বিক্রি বাড়লেও কমেছে পরিচালন মুনাফা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির কর-পূর্ব পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ খাতে মুনাফা কমেছে ১৯ শতাংশ।
মুনাফা কমার প্রভাব পড়েছে শেয়ারপ্রতি আয়েও (ইপিএস)। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ২ টাকা ৪১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফার মার্জিন ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। পরিচালন মুনাফার মার্জিনও ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাহিদা কমে আসার পরও উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছে কোম্পানি। হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট, সুপারক্রিট প্লাস ও কোস্টাল গার্ডের মতো বিশেষায়িত পণ্যের চাহিদা এবং কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ কোম্পানির বাজার অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, কোম্পানির সমন্বিত ব্যবসাও ভালো ফল ধরে রেখেছে। বিশেষায়িত পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এসব পণ্যের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তবে জ্বালানি, পরিবহন ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘জিওসাইকেল’-এর মাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৩১ হাজার টনের বেশি পুনর্ব্যবহার-অযোগ্য বর্জ্য সহ-প্রক্রিয়াজাত করেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানিটির দাবি, এ উদ্যোগের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে প্রায় ১০ শতাংশ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতাও বাড়ছে।
পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ অনুযায়ী, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হবে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মোট ১১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে বছরের বাকি সময়েও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী বছরের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে তারা।



