মেটলাইফের বিনিয়োগ বাড়ছে

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) ইস্যু করা চতুর্থ সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বীমা খাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী মেটলাইফ বাংলাদেশ। এই নতুন অর্থায়নের ফলে মেটলাইফ বাংলাদেশের মোট দেশীয় বিনিয়োগ পোর্টফোলিও প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটে ট্রেজারি বন্ডের বাইরে নিরাপদ কর্পোরেট উপাদানে ঝুঁকি কমানোর ঝোঁক বেড়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত সরকারি বন্ডেই বীমা খাতের বড় অংশ বিনিয়োগ করে থাকে। তবে মেটলাইফ এখন সেই নির্ভরতা কমিয়ে গতিশীল কর্পোরেট বন্ডে অর্থায়ন সম্প্রসারিত করছে। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শিল্প ও ব্যাংকিং খাতে যেমন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মেটলাইফের বিপুলসংখ্যক পলিসিহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষাকৃত ভালো এবং নিরাপদ রিটার্ন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
অর্থায়নের সার্বিক লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ জানান, দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে স্থানীয় আর্থিক খাতকে সুসংহত ও শক্তিশালী করতে তারা ধারাবাহিক বিনিয়োগ বজায় রাখছেন। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরির মাধ্যমে গ্রাহকদের আমানত রক্ষা এবং লাভজনক রিটার্ন দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ বলেন, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইবিএল কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের জন্য বৈচিত্র্যময় সুযোগ তৈরি করতে সফল হয়েছে। সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মাধ্যমে নতুন মূলধন যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, দেশের রিটেইল ও কর্পোরেট ব্যাংকিং উভয় ক্ষেত্রেই ইস্টার্ন ব্যাংক নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, মেটলাইফ বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তিগত গ্রাহক এবং ৯০০টিরও বেশি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে বীমা সেবা প্রদান করছে। মূলধনি বাজারে এই দুই বড় প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের এমন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে অর্থায়নের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।






