শেয়ারবাজারে পতন অব্যাহত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন। এদিন বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৪টির, কমেছে ২৫২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৮টির। ডিএসইতে এদিন ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস থেকে ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকার।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের ১৮ কোটি ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার এবং ১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে সায়হাম টেক্সটাইল লিমিটেড।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সিটি ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মতিন স্পিনিং, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বেক্সিমকো ফার্মা ও মালেক স্পিনিং লিমিটেড।
অন্যদিকে, শেয়ার দর পতনের শীর্ষে উঠে এসেছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার দর ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের শেয়ার দর ৫ দশমিক৭১ শতাংশ কমেছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, ৯৭টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
শেয়ারবাজার সূত্র জানিয়েছে, টানা ছুটির দীর্ঘ বিরতি শেষে পুঁজিবাজার খুললেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশিত আস্থা ও উদ্দীপনা ফেরেনি, বরং লেনদেনের শুরুতেই বাজারে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। টানা দুই কার্যদিবসেই প্রধান সূচক পতনের মুখ দেখেছে এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে কমেছে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও।
সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা আর লেনদেনের এই ক্রমসংকোচন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, ফলে পুঁজি সুরক্ষায় অনেকেই নতুন বিনোয়োগ থেকে আপাতত হাত গুটিয়ে পর্যবেক্ষণ নীতি অনুসরণ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




