মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই বাড়ছে ফরচুন সুজের দর

শেয়ারবাজারে ট্যানারি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই চলতি বছরের মে থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর টানা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। এতে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা।
তবে এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ১২ জুলাই সিএসই কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। জবাবে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থানে এমন কোনো নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই দরবৃদ্ধিকে যৌক্তিক করতে পারে।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বলছে, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম গত দুই মাসে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ১১ মে কোম্পানিতে শেয়ার দাম ছিল ১২.৮০ টাকায়। আর গত ১৫ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২১ টাকায়। ফলে দুই মাসের ব্যবধানে কোম্পানি শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮.২০ টাকা বা ৬৪.০৬ শতাংশের বেশি।
মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কোনো কোনো সেশনে দৈনিক লেনদেন অন্যান্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত ছোট মূলধনী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এমন লেনদেনের তীব্রতা প্রায়ই কৃত্রিম চাহিদাকে ইঙ্গিত করে।
সবশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছে ০.৫০ শতাংশ। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.১১ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪.৭০ টাকা।
ফরচুন সুজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৬ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৩১২টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০.৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮.৮৬ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫০.২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।





