টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতকে শক্তিশালী করা দরকার

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের গুরুত্ব ও অবদান নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনার বিষয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের গুরুত্ব ও অবদান কেমন?
উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) অর্থনীতির প্রাণশক্তি। দেশের জিডিপিতে এসএমই খাত প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রাখে এবং শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: এই অবদান কি প্রতিবেশী দেশের তুলনায় সন্তোষজনক?
উত্তর: বাংলাদেশের জিডিপিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। জিডিপিতে এই খাতের অবদান চীনে ৬০, শ্রীলঙ্কায় ৫২, জাপানে ৫০, ভিয়েতনামে ৪৫, পাকিস্তানে ৪০ এবং ভারতে ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান সন্তোষজনক নয়।
প্রশ্ন: সিএমএসএমই উদ্যোক্তার ৭০ শতাংশ ঢাকার বাইরে। তাদের সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কীভাবে সহায়তা করছে?
উত্তর: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সিএমএসএমই উদ্যোক্তার সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ এবং এতে কর্মরত জনবল ৩ দশমিক শূন্য ৬ কোটি। উদ্যোক্তাদের ৭০ ভাগ ঢাকার বাইরে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারি নীতিমালা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় ২২ লাখ উদ্যোক্তাকে সুবিধা দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুনে আগের নীতিমালার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শিল্প মন্ত্রণালয় ‘এসএমই নীতিমালা ২০২৬’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ ও জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কারের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: এসএমই খাতের উন্নয়নে সরকার, বিশেষ করে এসএমই ফাউন্ডেশন কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে?
উত্তর: উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশন প্রায় ১৩ হাজার উদ্যোক্তাকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে, যার ২৫ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা। ১৭৭টি ক্লাস্টার এবং বিভিন্ন পণ্যের ওপর ভিত্তি করে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক স্থানে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রশ্ন: এই খাতের উন্নয়নে ফাউন্ডেশন সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সহায়তা আশা করছে?
উত্তর: ফাউন্ডেশন শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে কাজের সমন্বয় এবং কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে। নীতিমালা বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে ক্রেডিট গ্যারান্টি, মুভেবল অ্যাসেট ফাইন্যান্স বা অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে ঋণ সুবিধা, ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স এবং বীমাভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো উদ্ভাবনী আর্থিক উপকরণ চালুর ওপর ফাউন্ডেশন গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের এসএমই খাত ও উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?
উত্তর: বর্তমান সময়ে দেশে এককভাবে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা এ খাতেরই রয়েছে। তবে বাজেটে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব এবং নিজস্ব জমি ও ভবনের অভাবে প্রশিক্ষণ এবং বিপণন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আশার কথা, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সহযোগী সংস্থার অনুকূলে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা নিয়মিত রাখা প্রয়োজন।
প্রশ্ন: এসএমই খাতের উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি খাত কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারে?
উত্তর: সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রয়াসে এসএমই ফাউন্ডেশন সারা দেশে অ্যাসোসিয়েশন, চেম্বার এবং ক্লাস্টারগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকার ও বেসরকারি খাত যদি এভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে তবেই এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।




