বিনিয়োগ বাড়াতে চাই তিন বিষয়ে গুরুত্ব

ড. জাহিদ হোসেন
বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী বাজেটে তিন বিষয়ে গুরুত্ব দরকার। এসব বিষয় মাথায় না রাখলে বিনিয়োগ পরিবেশ যেমন উন্নত হবে না, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহিত হবেন না। আর এই বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। ফলে বেকার সমস্যা আরও জেঁকে বসতে পারে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রথমত, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে আবার তিন জায়গায় সরকারের কাজ আছে। সেগুলো হলো— উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের দুর্দশা কাটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ব্যবস্থাপনা। এসব ঠিকঠাক না হলে বিনিয়োগ টানা কঠিন হবে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সব জট খুলতে হবে। যেমন— জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা আছে। গ্যাসের তীব্র সংকট বিদ্যমান। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামের অবস্থা যাওয়া-আসার মধ্যে চলছে। এ ছাড়া বন্দরের জট আছে। পাশাপাশি রয়েছে নিয়মকানুনের জটও। বিনিয়োগকারীরা চান বিনিয়োগ পরিবেশ জটমুক্ত হোক। মানুষ নিয়ম মানতে চান। কিন্তু এই নিয়ম মানতে গিয়ে যদি বাড়তি সময় ও অর্থ খরচ করতে হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সেদিকে যেতে চান না।
তৃতীয়ত, পলিসিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। সরকার যে নীতিমালা ঘোষণা করে (যেমন— কাস্টমস নীতি, ভ্যাট, আয়কর নীতিসহ বিভিন্ন নীতি), তখন বলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত এসব নীতির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকতে হবে। কেননা আজ যে নীতি নেওয়া হয়, সময়-সময় এর পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, সেই পরিবর্তনের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ প্রয়োজনে সরকারের ঘোষিত নীতির পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু তার সঠিক ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয়তা থাকতে হবে। সেটি না করে যদি হঠাৎ কোনো নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়, কিংবা দেখা গেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এসআরও জারি করে ব্যাখ্যা ছাড়াই কোনো একটা জায়গায় কর বাড়িয়ে দেয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা বিপাকে পড়ে যেতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে আস্থার সংকট দূর করা দরকার।




