১২৭০ কোটি টাকা মাশুল
- জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ রাস্তা-কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে
- সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে উঠছে আজ

সংগৃহীত ছবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ব্যয় বাড়ছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পে। এক্ষেত্রে মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় বাড়বে ১ হাজার ২৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে বাড়ছে মেয়াদও। ফলে চার বছরে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সময় লাগছে সাড়ে ১০ বছর। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, এ প্রকল্পের সংশোধনীসহ ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। গত একনেক বৈঠকে ১৮টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও সেখান থেকে ১২টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সময়ের অভাবে বাকিগুলো নিয়ে আলোচনাই হয়নি। ওই ছয়টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে এবারের একনেকে। নগর উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। শেষপর্যায়ে থাকায় সংশোধন করা প্রয়োজন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত মেয়াদ ছিল ২০১৮-এর জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ব্যয় বাড়ানো ছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীর সময় ছয় মাস মেয়াদ বাড়িয়ে ধরা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এর দ্বিতীয় সংশোধনীতে এসে দুই বছর বাড়িয়ে মেয়াদ প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
এদিকে প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে এসে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবার আরও বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ০২ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৭ শতাংশ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৯০টি পৌরসভার মৌলিক অবকাঠামো (রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ ইত্যাদি) নির্মাণের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির প্রধান কারণগুলো হলো— নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্তি, সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জ্বালানি সংকটে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। এ ছাড়া স্থানীয় চাহিদা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন পাঁচটি পৌরসভাসহ ২৯০টিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্রিজ বা কালভার্ট এবং ড্রেন নির্মাণে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মূলত এসব বর্ধিত কাজের চাহিদা মেটানোর জন্যই প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিসহ প্রস্তাব করা হয়েছে এই সংশোধনী।



