বাজেটে পরিবেশ ও জলবায়ু বরাদ্দে সন্তোষ বাপার

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : আগামীর সময়
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, জিডিপির তুলনায় এই বরাদ্দ এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরিবেশ ও জলবায়ু খাত: ২০২৬-২৭ বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার ভলেন্টিয়ার ফারহান হোসেন জয়।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু খাতের বরাদ্দ মোট বাজেটের ১.৭৬ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে ২২ শতাংশ।
তবে জিডিপির শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করলে এই বৃদ্ধিকে পর্যাপ্ত বলা যায় না। বিদায়ী সরকারের শেষ বাজেটে জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ছিল জিডিপির ০.৭৫ শতাংশ, যা বর্তমান সরকার সামান্য বাড়িয়ে ০.৭৬ শতাংশে উন্নীত করেছে।
বাপার বিশ্লেষণে বলা হয়, এবারের বাজেট বক্তৃতায় পরিবেশ ও পানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা প্রশংসনীয়। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল ভবনগুলো দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় এই খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার জনগণের কাছে পরিষ্কার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু অর্থায়ন কেবল একটি মন্ত্রণালয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট ২৫টি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের সঠিক বিভাজন করার দাবি জানায় সংগঠনটি। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা থেকে সুরক্ষায় জলবায়ু সহনশীল শস্য উদ্ভাবন, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সোলার হোম ও উইন্ড এনার্জিতে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সবুজ কর্মসংস্থানে ঢালাওভাবে সবাইকে যুক্ত না করে যারা সরাসরি পরিবেশ রক্ষার কাজে নিয়োজিত তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং নাগরিকরা যাতে সরাসরি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অনলাইনে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন করতে জিডিপির ০.৭৬ শতাংশ বরাদ্দকে অপ্রতুল আখ্যা দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পে বিশেষ কার্বন কর আরোপ এবং বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি না চালানো শিল্পগুলোকে জরিমানা করে সেই তহবিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শোধনাগার তৈরির দাবি জানানো হয়।
পরিবেশ সুরক্ষায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণের পাশাপাশি সবুজ শিল্পায়নকে উৎসাহিত করতে এলইইডি সার্টিফাইড কারখানার জন্য করপোরেট ট্যাক্স আরও ২ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, বাজেটে সবসময় মেগা প্রজেক্টের প্রাধান্য থাকে, কারণ এসব প্রজেক্টে লুটপাটের সুযোগ বেশি থাকে। বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে যে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে অন্যান্য উন্নয়ন কাজ চালানো হচ্ছে। এবার যেন জলবায়ু খাতের বরাদ্দ জলবায়ুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কাজে ব্যয় করা না হয়, সে বিষয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সংগঠনটির সভাপতি ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করে বলেছেন, প্রতি অর্থবছরের শেষের দিকে ভালো পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থেকে যায় এবং তখন তড়িঘড়ি করে টাকা খরচ করতে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। সারাবছর কাজ না করে বছরের শেষে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ করা কখনো পরিকল্পিত উন্নয়নের মধ্যে পড়ে না।
এই সংকট নিরসনে বাজেট চূড়ান্তভাবে পাস করার আগে পরিবেশবিদদের সঙ্গে বসে বরাদ্দ এবং এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে সরকারকে বিস্তারিত আলোচনা করার পরামর্শ দেন ড. নুর মোহাম্মদ।




