বিএসইসি ও আইডিআরএ শীর্ষ পদে বয়সসীমা তুলে সংসদে বিল পাস

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
শেয়ারবাজারের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দিতে পাস করা হয়েছে দুটি সংশোধনী বিল। বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করা হয়।
সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে বিল দুটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় দুই বিলের ক্ষেত্রেই জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় বিরোধী দল। পরে কণ্ঠভোটে দুটি প্রস্তাবই নাকচ হয়। এরপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুসারে বিল দুটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গৃহীত হয় এবং দফাওয়ারি অনুমোদনের পর পাস হয়।
বিএসইসির বর্তমান আইনে আছে, কোনো ব্যক্তি ৬৫ বছর পূর্ণ করলে তিনি বিএসইসির চেয়ারম্যান বা কমিশনার হিসেবে নিয়োগযোগ্য থাকেন না বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। সংশোধনী বিলে এ বিধানটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইডিআরএ আইনে উল্লেখ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি ৬৭ বছর পূর্ণ করলে তিনি ওই সংস্থার চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে পারেন না। নতুন বিলে এই বিধানও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়।
বিল দুটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগীভাবে আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
এ সময় শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘অতীতে এসব ঘটনা ঘটেছে বলেই সরকার এখন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ঢেলে সাজাতে হবে এবং এটার কার্যক্রমের যে রেগুলেটরি ইস্যুগুলো আছে, এখানে পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে হবে, জবাবদিহি আনতে হবে, শেয়ারহোল্ডারদের সুরক্ষা দিতে হবে।’
‘বয়সসীমা তোলার পেছনে একটি বাস্তব কারণও আছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ১৯৯৩ যে আইনটা হয়েছিল, তখন গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। এখন আমাদের গড় আয়ু হচ্ছে ৭২ বছর। আজকের দিনে ওই ৫৭ বছরের গড় আয়ু যদি আমি অ্যাপ্লাই করি, যোগ্য ব্যক্তিরা কোনো কাজ করতে পারবেন না। অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কোনো কাজ করতে পারবে না।’
‘বহু বছর এ খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এবং বিএনপি সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারে লুটপাটের সুযোগ ছিল না’ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বীমা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বীমা শিল্প খুবই কঠিন একটি অবস্থা পার করছে। এর পেছনে রয়েছে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, খারাপ সুশাসন এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অনেক বীমা কোম্পানি। ইনস্যুরেন্স পুরো সেক্টরটাকে, ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে গ্লোবালি যেখানে ইনস্যুরেন্সের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, করপোরেট গভর্ন্যান্সের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে আমরা সেই স্ট্যান্ডার্ডটা, বেঞ্চমার্কটা রিচ করার চেষ্টা করছি।’



