তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণে জাতীয় সম্মেলন

সংগৃহীত ছবি
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এবং ‘প্রমোশন অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং (পাওয়ার)’ প্রকল্পের আওতায় আজ ঢাকায় ‘ফ্রম অ্যাসপিরেপ্রেশন টু অ্যাচিভমেন্ট: ন্যাশনাল সামিট অন ইয়ং উইমেনস ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে নীতি নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ নারীরা অংশ নেন। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সহনশীলতা জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধান দীপা শঙ্কর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ‘আর্ন’ প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দীপা শঙ্কর তরুণদের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে সাধারণ বিকল্প হিসেবে না দেখে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন।
কাজী মোখলেছুর রহমান এই ধরনের প্রকল্পের লব্ধ অভিজ্ঞতাকে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘আর্ন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কাজে লাগানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণীদের ক্ষমতায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এর সাফল্য কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের উন্নয়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই ধরনের উদ্যোগ সরকারকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’ প্রতিভার বাস্তব প্রয়োগ এবং দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শুধু সনদ অর্জনের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে নিয়ে সরকার তরুণদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করতে চায়।’
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। বক্তব্য শেষে তিনি প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত তরুণীদের অভিনন্দন জানান এবং আয়োজক সংস্থাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের শুরুতে তরুণ নারী অংশগ্রহণকারীদের জীবনের অনুপ্রেরণামূলক অভিযাত্রা তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সহায়ক পরিবেশ শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যতে তরুণ ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৌশলগত আলোচনা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথকে আরও সুগম করা।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সহনশীলতা বৃদ্ধি (পাওয়ার) প্রকল্প গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ (জিইএসপি) তহবিলের আওতায় কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৬ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে। বিশেষ করে যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয় (নিট), তাদের কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সামাজিক বাধা দূর করায় প্রকল্পটি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এবং ইউনিসেফের সহায়তায় সেভ দ্য চিলড্রেনের নেতৃত্বে ইউসেপ বাংলাদেশ, দ্য আর্থ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অংশীদারত্বে প্রকল্পটি মার্চ ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।



