শীতের আগেই লিলি বডি লোশনের চাহিদা তুঙ্গে

শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই লিলি বডি লোশনের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন করেও বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে নতুন করে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাশ্রয়ী দাম, পণ্যের মান এবং বিক্রয়কেন্দ্রের বিভিন্ন অফারের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যটির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মৌসুমি চাহিদা সামনে রেখে রাজধানীর খুচরা দোকান থেকে শুরু করে সুপারশপগুলোতেও বডি লোশনের মজুত ও সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। রিমার্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে বিভিন্ন আধুনিক বিপণনকেন্দ্রে গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লিলি বডি লোশন সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যটির সঙ্গে ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ অফার দেওয়া হচ্ছে।
শীতের প্রস্তুতিতে বডি লোশন কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা ব্র্যান্ডের পাশাপাশি দাম ও ব্যবহারের সুবিধাও বিবেচনায় নিচ্ছেন। রাজধানীর হাতিরপুলের মীনা বাজার থেকে লিলি বডি লোশন কেনা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘শীতের সময় নিয়মিত লোশন ব্যবহার করতে হয়। তাই এমন পণ্য কিনতে চাই, যার মান ভালো এবং দামও সাধ্যের মধ্যে। পরিবারের খরচের কথা বিবেচনা করেই কেনাকাটা করি।’
একই সুপারশপের ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লোশন কেনার আগে কয়েকটি ব্র্যান্ডের দাম ও বৈশিষ্ট্য দেখি। শুধু কম দাম হলেই হয় না, পণ্যটি ব্যবহারের উপযোগী কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। লিলি বডি লোশন আমার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।’
মীনা বাজারের হাতিরপুল শাখার ব্যবস্থাপক শোভন হোসেইন জানিয়েছেন, শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাঁদের আউটলেটে ত্বকের যত্নের বিভিন্ন পণ্যের মজুত বাড়ানো হয়েছে। লোশনসহ নানা ধরনের ত্বক পরিচর্যার পণ্য কিনতে ক্রেতারা আসছেন। তাঁর ভাষ্য, শীতের প্রয়োজনীয় পণ্য অনেকেই আগেভাগে কিনছেন। লিলি বডি লোশনের ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ অফার ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। পণ্যের মান ও ছাড়ের কারণে এটি ভালো সাড়া পাচ্ছে।
সুপারশপের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও শীতের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের খুচরা বিক্রেতা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘শীত আসার আগেই ক্রেতারা লোশন কেনা শুরু করেছেন। কোন পণ্যের চাহিদা কেমন, তা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের মজুত রাখতে হয়। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া গেলে ক্রেতাদের প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। এবার লিলি বডি লোশনের সরবরাহের প্রস্তুতিও বেশ ভালো।’
ওই দোকান থেকে লিলি বডি লোশন কেনা লিমা খন্দকার বলেন, ‘আমি নিয়মিত লিলি বডি লোশন ব্যবহার করি। এর সুগন্ধ আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। পাশাপাশি ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার অনুভূতিও ভালো। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই লোশন ব্যবহার করেন। সব মিলিয়ে এটি আমাদের পরিবারের পছন্দের একটি পণ্য।’
মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় এবার আগেভাগেই সরবরাহ পরিকল্পনা সাজিয়েছে রিমার্ক। প্রতিষ্ঠানটির মডার্ন ট্রেড চ্যানেলের নির্বাহী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, লিলির পাশাপাশি নিওর ব্র্যান্ডের বডি লোশনও ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছে। স্বপ্ন, মীনা বাজার, ডেইলি শপিং, বেস্ট বাই, আগোরা, মেট্রো মার্ট ও ইউনিমার্টসহ বিভিন্ন চেইন শপ এবং আধুনিক বিপণনকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার দুই ব্র্যান্ডের লোশন বিক্রিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে লোশন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সাত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
লিলি বডি লোশনের বিক্রির প্রবণতা সম্পর্কে রিমার্কের ন্যাশনাল সেলস ডিরেক্টর মো. রুবেল বলেছেন, শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পণ্যটি নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। জাতীয় পর্যায়ের বিক্রয়তথ্য বিশ্লেষণ করে এবার বিক্রির আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। এ লক্ষ্যে সারা দেশে বিক্রয় কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকল্পনা সম্পর্কে রিমার্কের পরিচালক কে এম সাদমান সাঈদ জানিয়েছেন, বাজারের সাড়া বিবেচনায় লিলি বডি লোশনের উৎপাদন পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের পরও চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন করে কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পণ্যের মান বজায় রাখা, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রাখাকে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সময় উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ভোক্তাপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, বাজারের চাহিদা বিবেচনা না করে উৎপাদন বাড়ালে মজুত ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ পরিস্থিতিতে বাজারের চাহিদা ও বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রিমার্ক। আসন্ন শীত মৌসুমে লিলি বডি লোশনের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য।



