জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আনসার-ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের অঙ্গীকার

সংগৃহীত ছবি
মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংস্কারের মাধ্যমে চলমান প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ বুধবার সদর দপ্তরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও বিশেষ দোয়ার অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
মহাপরিচালক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারত্ব ও জবাবদিহির অভাব জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব তৈরি করে। তাই সততা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশ ও জনগণের সেবা করাই প্রতিটি রাজস্বভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রধান কর্তব্য। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার সদস্যরা যে নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন তিনি।
জনগণের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বাহিনীর প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি তুলে ধরেন যে, সাম্যতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাহিনীকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে, যা প্রতিটি সদস্যের দক্ষতা বাড়িয়ে আনসারকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করছে। বিভিন্ন নেতিবাচক গোষ্ঠীর বাধা সত্ত্বেও এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।
ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈষম্য দূরীকরণ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দেন ডিজি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নৈতিকতা ও সুশাসনের চর্চাকে টেকসই রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি ও নতুন বাংলাদেশের রূপান্তরের অভিযাত্রা নিয়ে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রগুলোর শিক্ষা ও বার্তা আত্মস্থ করে সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ডিজি। সদর দপ্তরের পাশাপাশি সারা দেশে বাহিনীর রেঞ্জ, জেলা, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা কার্যালয়ে একযোগে দিবসটি পালিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্কুল-কলেজে প্রতিযোগিতা, হাসপাতালে উন্নত খাবার পরিবেশন এবং বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাহিনীর উপমহাপরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।




