জিনের ভয় দেখিয়ে ক্ষতবিক্ষত হাত, অতঃপর
বন্যাদুর্গতদের পাশে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএইচআরএফ)। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এলাকাটিতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে তা নিরসনে টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনার সুপারিশ তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন, বাঁশখালা গ্রাম ও পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমের বাজার এলাকার বন্যাকবলিত প্রায় ৩৫০টি পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন বিএইচআরএফ-এর প্রতিনিধিরা।
সংস্থার মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসানের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী মাহির শাহরিয়ার রহমানের পরিচালনায় এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. হারুন, চট্টগ্রাম জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হাসান আল বান্নাহ ও অ্যাডভোকেট কে এম শান্তনু চৌধুরীসহ অন্যান্য আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বাঁশখালী ও আশপাশের এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানে একটি সরেজমিন সমীক্ষা পরিচালনা করে বিএইচআরএফ। সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি খাল দখল, স্লুইসগেটের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, পাহাড় থেকে পলি জমে খালের ধারণক্ষমতা হ্রাস এবং অপরিকল্পিত বসতির কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মাছ চাষ প্রকল্পের জন্য নদীখাত ভরাট ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিকে প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে একাধিক সুপারিশ পেশ করেছে বিএইচআরএফ। সংস্থাটি দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধার ও পরিষ্কার করা এবং বিদ্যমান স্লুইসগেট ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ, নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে অবৈধ বাঁধ ও মাছ চাষ প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া বন্যাপ্রবণ এলাকায় অপরিকল্পিত নির্মাণকাজে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং জনজীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর ও কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।




