বৃক্ষমেলায় নজর কাড়ছে আলী-জাহান এগ্রোর সবুজায়ন উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ৯ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্য প্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন।
রাজধানীতে মাসব্যাপী এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তিন দিন থেকে পক্ষকালব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ওষুধী ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রি চলছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মেলায় এবার ১২০টি স্টল অংশ নিয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের এ আয়োজনে বিভিন্ন নার্সারি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
মেলার শুরু থেকেই দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আলী-জাহান এগ্রোর ৪৫ নম্বর স্টল। নান্দনিক সাজসজ্জার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি গাছের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ স্টলটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক বৃক্ষপ্রেমী ও ক্রেতার উপস্থিতিতে স্টলটি মেলার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নগর জীবনে পরিকল্পিত সবুজায়নের বিকল্প নেই। সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আবাসিক ভবনের ছাদ, বারান্দা, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও সীমিত জায়গায় পরিকল্পিত বাগান গড়ে তোলার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তাদের মতে, রাজধানী ঢাকায় দ্রুত নগরায়ন ও বায়ুদূষণের কারণে প্রয়োজনীয় বৃক্ষের তুলনায় সবুজের পরিমাণ অত্যন্ত কম। ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভবনে পরিকল্পিত সবুজায়ন অপরিহার্য।
আলী-জাহান এগ্রো জানায়, মুনাফা অর্জনের চেয়ে প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মাধ্যমে অক্সিজেনসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। বিশেষ করে ইনডোর প্লান্টের মাধ্যমে সীমিত জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির ওপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, সব ইনডোর উদ্ভিদ সমান উপকারী নয়। শিশুদের মানসিক বিকাশ, নান্দনিকতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপযোগী উদ্ভিদ বিদেশ থেকে আমদানি ও দেশীয়ভাবে উৎপাদন করে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, মেগাসিটি ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করতে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিকল্পিত সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। নগরজুড়ে ছাদবাগান, বারান্দা বাগান এবং ইনডোর সবুজায়নের বিস্তার ঘটলে বায়ুর মান উন্নয়ন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে জাতীয় বননীতির আওতায় বৃক্ষরোপণকে গণআন্দোলনে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে।
আলী-জাহান এগ্রো জানিয়েছে, সরকারের বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সবুজায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা নগর ও গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশবান্ধব বনায়ন সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস, সামাজিক বনায়ন ও পরিকল্পিত সবুজায়নের বিস্তার ঘটলে ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে আরও স্বাস্থ্যকর, বাসযোগ্য ও পরিবেশসম্মত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।




