ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি

ডেঙ্গু সচেতনতা র্যালি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। শুক্রবার গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত উল্লেখ করেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ বা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বললেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সিটি কর্পোরেশনগুলোর সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জনগণের সহযোগিতার কারণেই অল্প সময়ে দুই কোটি শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে প্রত্যেকে যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে, তাহলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।তিনি জানান, জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং এসব উদ্যোগে জনসম্পৃক্ততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোসাইটিগুলোর দাবির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে যেমন বিভিন্ন সোসাইটি ও নগরবাসীর সহযোগিতা পাওয়া গেছে, তেমনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও সমন্বিত উদ্যোগ সফলতা বয়ে আনবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, বৃষ্টির পানি, বাসাবাড়ির টব, ছাদ কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, সভা-সমাবেশ এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গুলশান-২-এর রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।





