পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ
- আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন

সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে পেঁয়াজ ও উভয় ধরনের চিনির দাম ব্যাপকভাবে বাড়লেও বিপরীতে গমের দাম কমেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে, দেশের বাজারে পুরোপুরি এর প্রতিফলন ঘটেনি।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনের দাম ১০৮ মার্কিন ডলার থাকলেও ৪ আগস্ট তা লাফিয়ে ২৭০ ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ এ সময়ের ব্যবধানে টনপ্রতি ১৬২ ডলার বা ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ কথায়, ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্ট মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম আড়াই গুণ হয়ে গেছে, যা আলোচ্য পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি।
পেঁয়াজের মতো চিনির বাজারেও স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রতি টন পরিশোধিত চিনির দাম ছিল ৪০৬ ডলার, যা আগস্টে বেড়ে ৫১০ দশমিক ৬৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এতে ছয় মাসে পরিশোধিত চিনির দাম প্রায় ২৫ দশমিক ৮ বা এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত চিনির দাম টনপ্রতি ৩১২ দশমিক ৮৩ থেকে বেড়ে ৩৮০ দশমিক ৯৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত— দুই ধরনের চিনির দামই এ সময় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তবে গমের বাজারের চিত্রটি ছিল একেবারেই ভিন্ন। ফেব্রুয়ারিতে প্রতি টন গমের দাম ২৩২ ডলার থাকলেও আগস্টে তা কমে ২১৭ ডলারে নেমে আসে। ফলে টনপ্রতি ১৫ ডলার কমার পাশাপাশি শতাংশের হিসাবে গমের দাম কমেছে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের বাজারের চিত্র তুলনা করলে বেশ ভিন্নতা চোখে পড়ে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫০ টাকা থাকলেও আগস্টে তা সামান্য বেড়ে ৫৫ টাকা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দাম ১৫০ শতাংশ বাড়লেও দেশের খুচরা বাজারে তা বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। একইভাবে, দেশে প্রতি কেজি চিনির দাম ৯৮-১০৫ থেকে বেড়ে ১০৫-১১০ টাকা হয়েছে, যেখানে দাম বৃদ্ধির হার মাত্র ৪ দশমিক ৮ থেকে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আমদানি ব্যয়, স্থানীয় মজুদ, পর্যাপ্ত সরবরাহ, শুল্ক-কর এবং ডলারের বিনিময় হারের মতো বিষয়গুলো এ পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
সার্বিক বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন আগামীর সময়কে বললেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কথা থাকলেও দেশীয় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় তা হয়নি। তা ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম আগে থেকেই অস্বাভাবিক থাকায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে সুযোগ নিতে পারেননি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ব্যবসায়ীরা সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে দ্রুত দাম বাড়িয়ে দেন; কিন্তু দাম কমার বেলায় দেশে সে প্রভাব মোটেও কার্যকর হতে দেখা যায় না।






