ভোমরা স্থলবন্দর
তিন কারণে আমদানি-রপ্তানিতে ধস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর সাতক্ষীরার ভোমরায় বাণিজ্য কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। আশঙ্কাজনক হারে কমেছে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে মন্দা ভাব, এলসি জটিলতা এবং নানামুখী অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতার প্রভাবে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ভোমরা কাস্টম হাউজের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভোমরা বন্দরের জন্য ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি খাত থেকে আদায় হয়েছে মাত্র ৮৯ কোটি টাকা।
এর আগে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪ কোটি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আয় হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা; অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, দেশীয় মুদ্রার হিসাবে বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২ হাজার ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ভোমরা কাস্টম হাউজের তথ্যমতে, বন্দরে ভারতীয় পণ্যের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১৫০-২০০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-১০০টিতে।
ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খোলার জটিলতা ও উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য না আসাই এই রাজস্ব ধসের প্রধান কারণ। বন্দরের ব্যবসায়ী গণেশ ঘোষ জানিয়েছেন, ডলারের বাড়তি দর এবং ভারতে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন, ফলে আমদানি স্থবির হয়ে পড়েছে।
আমদানির পাশাপাশি ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানিতেও ভরাডুবি ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা থেকে দেশীয় মুদ্রায় আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অথচ এর আগের (২০২৪-২৫) অর্থবছরে ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৯৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেছেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে আসায় সিঅ্যান্ডএফ কর্মীরা বেকার হয়ে পড়েছেন, অনেক এজেন্সি দাপ্তরিক খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেছেন, অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে ভোমরার নীতিগত বৈষম্য রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে অন্যান্য বন্দরের সমকক্ষ সুবিধা না দিলে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন, যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব করে তুলবে।
আমদানি-রপ্তানি তলানিতে গিয়ে ঠেকায় বন্দরে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের শত শত শ্রমিক। তাদের পরিবারে এখন চরম দুর্দিন চলছে।






