আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ বিএসইসির
- নতুন কমিশনের কার্যক্রম শুরু

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকট, আস্থাহীনতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে লড়াই করছে দেশের শেয়ারবাজার। এমন বাস্তবতায় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করেছে সরকার।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। এরই মধ্যে যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে শেয়ারবাজারে।
বাজারকে গতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বা তাদের কাছে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা জানতে কথা হয় কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। তারা বলছেন, কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নীতিগত সংস্কার, তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতাও। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে। অবশ্য এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও তুলে ধরলেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার এক আদেশে মাসুদ খানকে বিএসইসির চেয়ারম্যান এবং মো. নাফিজ আল তারিক, নাহিদ মাহতাব ও তানভীর হাবিব রহমানকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ওইদিন দায়িত্ব নিয়ে একটি স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত, প্রাণবন্ত ও স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন চেয়ারম্যান। যিনি গতকাল রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন।
এই নিয়োগের পর গতকালই ছিল প্রথম কার্যদিবস। এদিন বাজারে দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক টানা ১০ কার্যদিবস ধরে বাড়ছে। গত ১৯ মে ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫২১১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। গতকাল চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫১৬ দশমিক ১৫ পয়েন্টে। অর্থাৎ এ কয়দিনে সূচক বেড়েছে ৩০৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অন্যদিকে ১৯ মে সিএসইর সিএএসপিআই সূচক ছিল ১৪৬৫৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। গতকাল তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৩৯৯ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে। এ কয়দিনে সূচক বেড়েছে ৭৪৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করেন, বাজারের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত। ফলে নতুন কমিশনের কাছে নতুন করে প্রতিশ্রুতি নয়; বরং দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। তিনি বললেন, ‘বাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করা, রিয়েল-টাইম তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনে জোর দিতে হবে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও জেড ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলছিলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়নই তার প্রথম প্রত্যাশা। আরও বললেন, ‘অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান অনেক সময় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বাজারে নীতিগত স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে।’
শেয়ারবাজারের অনেক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করলেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। বললেন, এ কারণে বিনিয়োগকারীদের হতাশা বেড়েছে, আশা করি নতুন কমিশন সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নেবে এবং অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, একটি শক্তিশালী ও টেকসই শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে হলে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।




