সামাজিক সুরক্ষায় যাদের ভাতা বাড়ল, থাকছে নতুন ৮ কর্মসূচি

প্রতীকী ছবি
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় এক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, এ খাতে বরাদ্দ ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা বা ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ বেড়ে ৩ কোটি ২৭ লাখে পৌঁছাবে। পাশাপাশি বাজেটে যুক্ত হয়েছে নতুন আটটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মহীন শ্রমিক সুরক্ষা, জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের ভাতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী উল্লেখযোগ্য।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ছে : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তি পাচ্ছেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নাগরিকরা। বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বেড়ে ৬২ লাখে দাঁড়াবে। মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। এতে বরাদ্দ বেড়ে হবে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীদের ভাতাও ৭০০ টাকায় উন্নীত হচ্ছে। উপকারভোগী বাড়ছে ১ লাখ, বরাদ্দ দাঁড়াবে ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। আর প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং মোট বরাদ্দ ৮৩৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তিবাবদ ৩৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ১২৮ কোটি টাকা।
রোগীদের জন্য সহায়তা দ্বিগুণ : ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অনুদান ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকারভোগী সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মা–শিশু কর্মসূচি : বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা বাবদ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। এরমধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ৪০ হাজার, বীর-উত্তম পরিবারের ৩০ হাজার, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা করার এবং সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ ২২৬ কোটি থেকে ২৩৫ কোটি টাকা, ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের সুবিধা (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচিতে ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে আগের মতোই মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে।
তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বরাদ্দ ৫৮ কোটি টাকা ও অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এতে উপকারভোগী ৩০ হাজার কমিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার করার প্রস্তাব করেছে।
এদিকে এবারের বাজেটের বড় চমক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে নতুন আটটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড। এককভাবে এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। প্রায় ৪১ লাখ পরিবার বা ব্যক্তি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।
এ ছাড়া চালু হচ্ছে কর্মহীন শ্রমিক সুরক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী, কৃষক কার্ড, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের ভাতাসহ একাধিক নতুন উদ্যোগ। এরমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, বৌদ্ধ ভিক্ষু, খাদেমসহ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জনকে মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে।
এর মধ্যে ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষের ভাতা মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, বিহার উপাধ্যক্ষের ভাতা ৩ হাজার এবং মসজিদের খাদেমের ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ১৫ হাজার কর্মহীন শ্রমিকের জন্য সর্বোচ্চ ৩ মাসের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের ভাতা কর্মসূচিতে সরকারের বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৩৭ কোটি টাকা। এর আওতায় ১৬ হাজার ৫১৩ উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে ৮৪৪টি শহীদ পরিবার মাসে ২০ হাজার টাকা করে পাবে।
গুরুতর আহত ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার ৬০৭ জনকে মাসিক ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ শ্রেণির ১ হাজার ৬১৪ জনকে ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির ১২ হাজার ৪৪৮ জনকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ভিজিএফ সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টন চাল বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তার অন্য কোনো সুবিধা পাবেন না।






