‘ভাতার ছাতা’র নিচে ৩ কোটি মানুষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক যুগের মধ্যে বড় সম্প্রসারণ ঘটতে যাচ্ছে। এর আওতায় ভাতা পাবেন তিন কোটির বেশি মানুষ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ ২৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার ৯০ কোটি টাকায় উন্নীত হচ্ছে। টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত বরাদ্দ যোগ হচ্ছে ১৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বা ৬০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে মোট উপকারভোগী ২ কোটি ১৭ লাখ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেড়ে ৩ কোটি ২৭ লাখ হচ্ছে। নতুন যুক্ত হওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ জন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামীর সময়কে বলেছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলা। আসন্ন বাজেটে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো কার্যকর, স্বচ্ছ ও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা আছে। সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এই বিস্তৃত ব্যয়ের ফলে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ পৌঁছাবে।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বড় সম্প্রসারণ: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তি পাবেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা। বয়স্ক ভাতাভোগী বেড়ে ৬১ থেকে ৬২ লাখে যাচ্ছে। মাসিক ভাতা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় উন্নীত হচ্ছে। ফলে বরাদ্দ ৪ হাজার ৭৯১ কোটি থেকে বেড়ে ৫ হাজার ২০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ভাতা ৭০০ টাকায় উন্নীত হচ্ছে। উপকারভোগী বাড়ছে ১ লাখ। এতে বরাদ্দ ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
রোগীদের জন্য সহায়তা দ্বিগুণ: ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় সুখবর রয়েছে। বর্তমানে একজন রোগী ৫০ হাজার টাকা পান। আগামী অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হচ্ছে। উপকারভোগীও ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজারে উন্নীত হচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা বাবদ মোট বরাদ্দ ৫ হাজার ৭৮২ কোটি থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকায় উঠছে। সামগ্রিক বরাদ্দে বড় পরিবর্তন না এলেও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ৩৫ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা, বীরউত্তম পরিবারের ভাতা ২৫ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজার টাকা হচ্ছে। এ ছাড়া বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা ২০ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মা ও শিশু, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দরিদ্র কর্মসংস্থান: মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজারে উন্নীত হচ্ছে। বরাদ্দ ১ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকায় পৌঁছাবে।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও খাদ্য সহায়তা: অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ ২২৬ কোটি থেকে ২৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। পাশাপাশি ভিজিএফ কর্মসূচিতে ১৫ লাখ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে ৬৪২ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের সুবিধা (ভিডব্লিউবি): এ কর্মসূচিতে ১০ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে আগের মতোই মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। বরাদ্দ অপরিবর্তিত থেকে ২ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
বরাদ্দ কমছে যেসব কর্মসূচিতে: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বরাদ্দ ৫ হাজার ৮৩২ কোটি থেকে ৫ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকায় নেমে আসছে। অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতেও বরাদ্দ প্রায় ১৮ কোটি টাকা কমছে। উপকারভোগীও ৪ লাখ থেকে ৩ দশমিক ৭০ লাখে নেমে আসছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকার খাদ্যভিত্তিক সহায়তার পরিবর্তে নগদভিত্তিক সহায়তায় বেশি জোর দিচ্ছে।




