নারীর স্বনির্ভরতা ও সুরক্ষায় জোর
- মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ৫,১৯৬ কোটি টাকা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুদের জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবারের বাজেটে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রস্তাবিত বাজেট ৫ হাজার ৭৭ দশমিক ৮৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১৮ দশমিক ১১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ। জাতীয় সংসদ ভবনে চলমান বাজেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নারী ও শিশু উন্নয়ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেটে উল্লেখ করা হয়, নারীর ক্ষমতায়নই টেকসই উন্নয়নের মূল নির্দেশক। আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশব্যাপী কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি অত্যাধুনিক ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় বর্তমানে ভিডব্লিউবি ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ১০ লাখ ৪০ হাজার দুস্থ ও অসহায় নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে, যা নারীদের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে ‘কুইক রেসপন্স টিম’কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে পথশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সুরক্ষায় বর্তমানে দেশের ১৭টি জেলায় ৩৩টি সমন্বিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত এই বাজেট প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে দেশের নারী সমাজ আরও স্বাবলম্বী হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।




