ইভিতে ছাড়, চার্জিং স্টেশন আমদানিতে শুল্ক শূন্য

সংগৃহীত ছবি
পরিবেশ দূষণ কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (ইভি) ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বড় শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানিতেও কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলচালিত কিছু ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর কর বাড়িয়ে সেগুলোর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা হবে। এর মধ্যে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে মোট করভার কমে ৬৪ শতাংশে নেমে আসবে। আর ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ৮০ শতাংশ।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনুরূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফের সুবিধাও চালু রয়েছে। এই সুবিধা ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) আমদানিতেও কর ছাড়ের প্রস্তাব এসেছে। এর আওতায় ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরনভেদে কমানো হবে। এছাড়া ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন পিএইচইভি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির মোট করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩৭ শতাংশে নেমে আসবে। অন্যদিকে ২ হাজার সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভির করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়াবে।
এদিকে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চার্জিং অবকাঠামোর ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। এ কারণে ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ করভার পুরোপুরি প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বেসরকারি খাতে চার্জিং নেটওয়ার্ক স্থাপনে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
একদিকে ইভিতে কর ছাড় দেওয়া হলেও, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার ইন্টারনাল কম্বাশন (আইসি) ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানিকৃত গাড়ির মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করা হবে। তবে অন্যান্য শ্রেণির গাড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।






