কমেছে উন্নয়ন বরাদ্দ, বক্তৃতায় বড় প্রকল্পের ফুলঝুরি

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: পিএমও
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের বড় চার জায়গা থেকেই উন্নয়ন বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, নৌ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় শোনা গেছে যোগাযোগ খাতের বড় বড় প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ফুলঝুরি।
যোগাযোগের চার খাত মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে উন্নয়ন বাবদ বরাদ্দ ছিল ৫৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দ কমেছে ৯ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। শতাংশের হিসাবে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১৭.২ শতাংশ।
এবার সবচেয়ে বড় কাটছাঁট হয়েছে সেতু বিভাগে। এই খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ কমেছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৫১.৮ শতাংশ। রেল এবং নৌ—উভয় খাতেই বরাদ্দ কমেছে ২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা করে। দুই ক্ষেত্রেই কমার হার প্রায় ২৯.৫ শতাংশ। সড়ক খাতে বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ৪.৯ শতাংশ। চার খাতের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম হারে কাটছাঁট হয়েছে।
গত অর্থবছরে সড়কের উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এবার তা কমে নেমে এসেছে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকায়। রেলের বরাদ্দ ৭ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। নৌ খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে হয়েছে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। আর সেতু বিভাগে ৬ হাজার ১২ কোটি টাকা থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ কমে নেমেছে ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকায়।
যদিও অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন ৬টি মেট্রোরেল, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎচালিত বাসসহ স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কথা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সেতু বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয় বাজেট বক্তৃতায়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য উপস্থাপন করা হয় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানালেন সড়ক, সেতু ও পরিবহন খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা।
মহাসড়ক উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চারলেনে উন্নীতকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বললেন, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে পুনরায়।
অর্থমন্ত্রী জানান, অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু এবং পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তুলতে চিহ্নিত করা হয়েছে সম্ভাব্য করিডোর। রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের উদ্যোগও।
তিনি ঘোষণা দিলেন, ৬টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, পুরোনো বাস পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দিয়ে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেন, যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে ইলেকট্রনিক টোল এবং স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।






