সংকট কাটাতে বন্ড ছাড়ছে পাঁচ ব্যাংক
- বিএসইসির অনুমোদন

খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতিতে চাপে থাকা ব্যাংক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মূলধন শক্তিশালী করতে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথে হাঁটছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচ ব্যাংককে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র
মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো— ওয়ান ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও
ব্যাংক এশিয়া।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন নিয়ে সামগ্রিকভাবে চাপ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মূলধন-ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ অনুপাত (সিআরএআর) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫-এও ব্যাংক খাতের মূলধন পরিস্থিতির অবনতির চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংক খাতের সিআরএআর ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যেখানে ব্যাসেল-৩ কাঠামো অনুযায়ী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় হার ১০ শতাংশ।
তবে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এক নয়। যেমন— ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্র্যাক ব্যাংকের সিআরএআর ছিল ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে বন্ডের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো। ওয়ান ব্যাংক ৪০০, সাউথইস্ট ব্যাংক ৮০০, ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৫০০ এবং ব্যাংক এশিয়া ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
ওয়ান ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বন্ডের সুদহার হবে রেফারেন্স হার + ৩ শতাংশ। এসব বন্ডের অর্থ ব্যাংকগুলোর ব্যাসেল-৩ কাঠামোর আওতায় টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ৩ বছরমেয়াদি ১ হাজার কোটি টাকার বন্ডটি হবে জিরো-কুপন সবুজ বন্ড। এর সম্ভাব্য ডিসকাউন্ট রেট ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে যোগ্য গ্রাহকদের সবুজ অর্থায়ন করা হবে।
অন্যদিকে, ব্যাংক এশিয়ার ৭ বছরমেয়াদি ৮০০ কোটি টাকার বন্ডের অর্থ টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি
সবুজ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন ও পুনঃ অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।
সবগুলো বন্ডই ব্যক্তিগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক, উচ্চ সম্পদশালী ও অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। ওয়ান ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার বন্ড স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
ব্যাংক খাতে মূলধন শক্তিশালী করার জন্য বন্ড ব্যবহার নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ব্যাংক বন্ড ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে।
তবে বন্ডের মাধ্যমে নতুন মূলধন সংগ্রহ মূলধন ঘাটতি সামাল দিতে সহায়ক হলেও ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, দুর্বল ঋণ আদায় ও সুশাসনের সমস্যাগুলোর সমাধান আলাদাভাবে প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দুর্বল করপোরেট সুশাসন, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়াসহ বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে।



