সচল রাখতে ২১ লাখ কোটি টাকার সহায়তা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যাপক খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর সংকট, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা মিলিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাত। ফলে ২০২৫ সালে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সচল রাখতে ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৮ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৫ সালে ১১টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি তারল্য সহায়তা (ইএলএ) পেয়েছে ১৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে প্রধানত রেপো অপারেশন, নিশ্চিত তারল্য সহায়তা (এএলএস), ইসলামী ব্যাংক তারল্য সুবিধা (আইবিএলএফ), বিশেষ তারল্য সহায়তাসহ (এসএলএস) বিভিন্ন তারল্য উইন্ডোর মাধ্যমে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। মূলত ৫৯.১১ শতাংশ এবং ৩৬.৬৭ শতাংশ রেপো ও এএলএসের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। এসএলএফের অবদান ছিল মাত্র ৪.২২ শতাংশ। তবে পর্যালোচনা বর্ষে ব্যাংকগুলো স্থায়ী আমানত সুবিধা (এসডিএফ) আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে ৫ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইসলামী ব্যাংকগুলো তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ), মুদারাবাহ লিকুইডিটি সাপোর্ট (এমএলএস) এবং স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্টের (এসএলএস) মাধ্যমে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। মোট সহায়তার মধ্যে আইবিএলএফের অংশ ছিল সর্বাধিক ৮৯.৯৩ শতাংশ, যেখানে এসএলএসের অংশ ছিল ৯.৮৮ শতাংশ। নিয়মিত তারল্য উপকরণের মাধ্যমে তারল্য সহায়তা প্রধানত প্রচলিত ব্যাংকগুলো ব্যবহার করেছে ৯১.৮৯ শতাংশ। যেখানে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৮.১১ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। বরং এটি দেশের ব্যাংক খাতের গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা বলা চলে। কেননা, বছর ধরে দুর্বল সুশাসন, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রভাব, খেলাপি ঋণের বিস্তার এবং পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহির অভাব ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে তুলেছে। এর ফলে কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারছে না। আর বিপুল তারল্য সহায়তা প্রমাণ করে যে দেশের একটি অংশের ব্যাংক নিজেদের তহবিল ব্যবস্থাপনা দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল না থেকে ক্রমেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর থেকে বরে হতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বললেন, দেশের ব্যাংক খাতে দুর্বলতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিভাবক হিসাবে তারল্য সহায়তা দেয়, যা ব্যাংক খাতের নিয়মিত কাজ। ব্যাংকগুলো বিপদে তারল্য সহায়তা নেয়। আবার অবস্থা ভালো হলে ফেরত দেয়। তবে সামনে এটি কমবে বলে আশা করা যায়।




