ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে কত টাকা পাবেন গ্রাহক

ফাইল ছবি
ব্যাংকে টাকা রাখার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় ভরসা থাকে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা। কিন্তু কোনো কারণে একটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে বা অবসায়নে গেলে তখন প্রসঙ্গ আসে ক্ষতিপূরণের।
বিশেষ করে সম্প্রতি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পদ্মা ব্যাংক পিএলসি বন্ধের আলোচনার মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে এই প্রসঙ্গ। ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী একজন গ্রাহক কত টাকা ফেরত পাবেন, আইনেই বা কী বলা রয়েছে?
পদ্মা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানাচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বৈঠক করেছে। সেখানে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু ব্যাংকটি সক্রিয় করতে কোনো সমাধানের পথ বের করা সম্ভব হয়নি।
তখন পদ্মা ব্যাংকের সংকট কাটাতে অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সেটি অনুমোদনের জন্য চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে ব্যাংকিং রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হবে ব্যাংক বন্ধের কার্যক্রম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, পদ্মা ব্যাংকের সম্পদ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর গত জুন পর্যন্ত খেলাপিঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৩৮ কোটি। তার মধ্যে ৪ হাজার ৯৩৩ কোটি খেলাপি হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৯০ শতাংশ।
আগের বছর (২০২৬) জুনে খেলাপি ছিল ৫ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, যা ঋণের প্রায় ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। মূলত ঋণ পুনঃতফসিল এবং এক্সিট কর্মসূচির আওতায় কিছু টাকা আদায় করেছে ব্যাংকটি। সে সঙ্গে খেলাপির পরিমাণও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পদ্মা ব্যাংকের জুনে ছিল প্রায় ৬ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকার সম্পদ। যার বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। পদ্মা ব্যাংকে ৪৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে।
এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস গ্যাস, বিটিআরসি, চট্টগ্রাম বন্দর জীবন বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস গ্যাস, মোংলা বন্দর অন্যতম।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা পদ্মা ব্যাংকে জমা আছে, যা বছরের পর বছর ফেরত দিতে পারছে না।
শেষ পর্যন্ত পদ্মা ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে এটি হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যাংক অবসায়নের ঘটনা।
আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা ফিন্যান্স কোম্পানি অবসায়ন বা বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন সাধারণ আমানতকারীরা। যেটা আগে ছিল এক লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানত রাখা ব্যক্তিদের আমানত ফেরত নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।
পদ্মা ব্যাংক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গত বৃহস্পতিবার আগামীর সময়কে বলেছেন, ব্যাংকটির বর্তমান যে নাজুক পরিস্থিতি, তাতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক স্বেচ্ছায় তাদের দায়িত্ব বা এর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে না।
‘ব্যাংকটির মন্দ ঋণ, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং মূলধন ঘাটতি এতটাই বেশি যে, তা কাটিয়ে ওঠা সাধারণ প্রক্রিয়ায় অসম্ভব’, বলছিলেন আরিফ হোসেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক পদ্মা ব্যাংক সম্পর্কে আরও বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি টিকিয়ে রাখা বা কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা অত্যন্ত কঠিন। সবকিছু মিলিয়ে গুটিয়ে ফেলা (অবসান বা লিকুইডেশন) ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।



