১২.০৫% কুপন রেটে মেঘনা ব্যাংকের বন্ড

মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। সাত বছরমেয়াদি এই বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। বন্ডটির মাধ্যমে ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্ডটির কুপন রেট পরিবর্তনশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত, ইসলামি ও বিদেশি ব্যাংক ছাড়া দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাসমেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে এর রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির বার্ষিক কুপন রেট ছিল ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক শূন্য ৫ এবং মার্জিন
বন্ডটির অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। ব্যক্তিশ্রেণি ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীরা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রযোজ্য আইন এবং ইস্যুর শর্ত অনুযায়ী এতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ডিএসইর মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডটি লেনদেনের সুযোগ পাবেন, যা বিনিয়োগের তারল্য বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিনিয়োগকারীরা ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন। বন্ডের তৃতীয় বছর শেষে মূলধন পরিশোধ শুরু হবে। এরপর শেষ পাঁচ বছরে প্রতি বছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কুপন রেটকে ব্যাংকটির প্রচারিত তথ্যে প্রচলিত মেয়াদি আমানতের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি রিটার্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রেফারেন্স রেট পরিবর্তনশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে কুপন আয় পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রচলিত আয়কর আইন অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্তির সুবাদে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা বন্ডটিতে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে কোনো ধরনের আবগারি শুল্ক নেই বলে উল্লেখ করেছে ব্যাংকটি। ডিপিএস ও সাধারণ সঞ্চয়পত্রের মতো এই বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই।
ব্যাংকটির প্রত্যাশা, বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।



