শাকসবজি ও ফলের চড়া দামে তীব্র চাপে মুদ্রাস্ফীতি

সংগৃহীত ছবি
শাকসবজি ও ফলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। সংস্থাটির ভাষ্য, আগে চালের দাম মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখলেও সেটি এখন নেই। সেই জায়গা নিয়েছে শাকসবজি ও ফল।
আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরে জিইডি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মুদ্রাস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা প্রকৃত আয়ে চাপ বাড়াচ্ছে। এছাড়া মাসিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আদায় হওয়ায় কর রাজস্বের বৃদ্ধি সামান্যই হয়েছে। পাশাপাশি অর্থায়নের উৎসগুলোর মধ্যে বাস্তবায়নের অসমতার কারণে উন্নয়ন ব্যয় হয়ে পড়ছে গতিহীন।
রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল কিন্তু ক্রমবর্ধমান জ্বালানি আমদানির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা। এ অবস্থায় চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি সতর্কতামূলক নীতি কাঠামো।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খাদ্যপণ্যের দামে অস্থিরতা ফিরে এসেছে। চালের দাম না বাড়লেও শাকসবজি এবং ফলমূলের কারণে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা খাদ্যদ্রব্যে নতুন করে সৃষ্ট চাপ প্রতিফলিত করে।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো খাদ্যবর্হিভূত মূল্যস্ফীতিকে (৯ দশমিক ০১ শতাংশ) ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিবর্তন নিত্যপণ্যের অস্থিরতাই তুলে ধরে, যা শাকসবজি ও মাছ দাম বাড়ার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে চালের মূল্যস্ফীতি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোট মূল্যস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল খাদ্য খাত, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ অবদান রেখেছে। এছাড়া আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানির অবদান ছিল ১৪ শতাংশ, যেখানে পোশাক ও জুতার অবদান ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পরিবহন খাতের অবদান ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
অন্যান্য খাত, যেমন- শিক্ষা ৩ দশমিক ১ শতাংশ, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ও তামাক ২ দশমিক ৪ শতাংশ, আসবাবপত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ, রেস্তোরাঁ ও হোটেল ২ দশমিক ১ শতাংশ, যোগাযোগ ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

