সরকারের ঘাড়ে ২৩ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার ঋণ

ফাইল ছবি
অতিরিক্ত ঋণের বোঝায় বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছে সরকার। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সরকারের দেশি-বিদেশি মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ২২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগামী তিন অর্থবছরের মাথায় এই ঋণের অঙ্ক আরও বেড়ে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
এদিকে পুরনো এবং বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য নেওয়া এই বিশাল ঋণের কারণে আগামী তিন অর্থবছরে সরকারকে শুধু সুদ বাবদই পরিশোধ করতে হবে ৪ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের প্রায় আড়াই গুণ।
দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি দেশের আর্থিক সক্ষমতা, প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ ও বৈশ্বিক অর্থবাজারে অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি, দেশীয় সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক ঋণের দায় বাড়ার কারণে সুদ পরিশোধের এই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ৪২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় হবে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণ বলছে, জিডিপির অনুপাতে সুদ ব্যয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২.৫ শতাংশ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এটি মোটেই চাপ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়; বরং অর্থনীতির আকার বড় হওয়ায় অনুপাত কমলেও প্রকৃত অর্থমূল্যে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরি বলেছেন, ঋণ নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। যদিও নীতিগত সহায়তা ও যৌক্তিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটি সংকট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসছে। আমাদেরও সংকট আছে। ঋণের ফাঁদে যেন পড়তে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
‘আগের ঋণের অর্থের দুর্নীতি, অপচয় ও অপব্যবহার হয়েছে, সঠিক ব্যবহার হয়নি। যে কারণে আজ ঋণ বোঝা হিসেবে দেখা দিয়েছে’, মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, মূল সংকট ঋণের অঙ্ক নিয়ে নয়। সমপর্যায়ের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত এখনো ঝুঁকিপূর্ণ সীমার বাইরে। আসল বিপর্যয়টি ঘটছে সরকারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায়।
মাহবুব আহমেদ বলছিলেন, রাজস্ব ও কর আদায়ে চরম অদক্ষতার কারণে দেশে কর-জিডিপির অনুপাত মাত্র ৬-৭ শতাংশে নেমে এসেছে। যা অন্তত ১২-১৫ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল। সেটি হলে ভয়ের কিছুই ছিল না।




