ইউটিউব দেখে শুরু
৩২ বিঘার খামার হান্নানের

ছবি: আগামীর সময়
একসময় মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলের প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল দুম্বা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশেও গড়ে উঠছে এ প্রাণীর খামার। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খামার পাথুরিয়া গ্রামে ৩২ বিঘা জমির ওপর তেমনি একটি খামার রয়েছে হান্নান সরকারের। মাত্র চারটি দুম্বা দিয়ে শুরু। ইউটিউবে দেখা একটি ভিডিও থেকে জন্ম নেওয়া সেই উদ্যোগ এখন শতাধিক দুম্বার খামারে পরিণত হয়েছে।
দুম্বার পাশাপাশি এখানে পালন করা হচ্ছে ছোট জাতের গরু, বিদেশি ছাগল, গাড়লসহ চার শতাধিক প্রাণী। গত কোরবানির ঈদে এই খামার থেকে ৬২টি দুম্বা বিক্রিও করেছেন তিনি। দুম্বা বিক্রির বাজারও তৈরি হয়েছে তার খামার ঘিরে। আকার ও গঠনভেদে প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বা এক থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন হান্নান। কোরবানির মৌসুমের বাইরে প্রতি মাসে গড়ে ৮-১০টি দুম্বা বিক্রি হয়।
হান্নানের দুম্বা পালনের এই সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক তরুণও আগ্রহী হয়েছেন। কেউ তার খামার থেকে দুম্বা কিনে ছোট পরিসরে পালন শুরু করেছেন। ফলে একটি খামারের উদ্যোগ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মধ্যেও।
হান্নানের পশুপালনের শুরু অবশ্য দুম্বা দিয়ে নয়। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর বড় ভাই আনোয়ারের সঙ্গে মিলে প্রথমে দু-তিনটি ছাগল পালন শুরু করেন। পরে যুক্ত হয় গরু, ভেড়া ও গাড়ল। বিদেশি প্রাণী পালনের প্রতি আগ্রহ থেকেই একপর্যায়ে দুম্বা নিয়ে ভাবেন তিনি। ইউটিউব থেকে দুম্বা পালনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানার পর ২০১৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে খামার গড়ে তোলেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন দুই ভাই আনোয়ার ও ফেরদৌস।
হান্নানের ভাষায়, দুম্বা পালনে খরচ তুলনামূলক কম। খড়, ভুসি ও কাঁচা ঘাস দিয়েই এগুলো পালন করা যায়। একটি গরুর খাবারের খরচে আট থেকে ১০টি দুম্বা পালন সম্ভব।
নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীনের ভাষ্য, দুম্বা শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন এটি পালন হচ্ছে। গুরুদাসপুরে বড় পরিসরে দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বাণিজ্যিকভাবে পালন করলে এটি লাভজনক হতে পারে।



